যশোরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাঙচুর, শপথ গ্রহণে বাঁধা

 
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্য দিয়ে যশোরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান হয়েছে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের টাউন হল ময়দানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর আগে বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘোষক এবং পুলিশ পণ্ড করার চেষ্টা চালায়। 
 
যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে সাবেক কমান্ডার মুযহারুল ইসলাম মন্টু ও বর্তমান কমান্ডার রাজেক আহমেদ অনুসারীদের মধ্যে কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। 
 
IMG0
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার অনুষ্ঠান মঞ্চে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রাজেক আহমেদকে ডাকা হলে রাজেকবিরোধী মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা মঞ্চের দিকে চেয়ার ছুঁড়ে মারেন। টেবিল ভেঙে ফেলেন। এসময় দুইপক্ষের লোকজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন মাইকে ঘোষণা দেন শান্ত হওয়ার জন্য। কিন্তু মুযাহারুল ইসলাম মন্টুর অনুসারীরা আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। মঞ্চে জেলা প্রশাসক মাইকে ঘোষণা দেন আগামী তিন দিনের মধ্যে দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর পরিস্থিত শান্ত হয়। এসময় মঞ্চে সদর আসনের এমপি কাজী নাবিল এবং পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
 
জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে অনেক জেলায় সংসদের দায়িত্ব হস্তান্তরের করেছে। আবার অনেক জায়গায় দায়িত্ব হস্তান্তর করেনি। আমি মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য লিখেছিলাম। আশা করছি আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ফয়সালা হয়ে যাবে।
 
এদিকে, মণিহার এলাকার বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর শিল্পী- সংস্কৃতিকর্মীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ শুরু করলে ঘোষকের দায়িত্বে থাকা জনৈক পরিবহন শ্রমিক হারুনুর রশীদ ফুলু বেদীতে শপথ না পড়ার জন্য বার বার মাইকে ঘোষণা দিতে থাকেন।এসময় পুলিশ সদস্যরা সংস্কৃতিকর্মীদের দিকে তেড়ে যায় এবং তাদের সাথে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনায় সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
 
ইত্তেফাক/কেকে