ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের জন্য কি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই দায়ী?

ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নগরগুলোর বায়ুদূষণ। বলা হচ্ছে, রাজধানীর বায়ুদূষণের মাত্রা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে বিশ্বের অন্যসব নগরীকে। এ পরিস্থিতির জন্য অনেকে দায়ী করছেন অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে দেওয়া পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো

অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ গাছপালাহীন ইটপাথরের এ নগরীকে রীতিমতো বিষাক্ত নগরীতে পরিণত করেছে। এখন তরুণ প্রজন্ম হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের শিকার হচ্ছে—এর জন্য বায়ুদূষণ অনেকাংশে দায়ী। শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ক্যান্সার, ফুসফুসের নানাবিধ রোগের জন্য তা দায়ী তো বটেই। তরুণ সমাজের পাশাপাশি বৃদ্ধ এবং বাচ্চারা এ বায়ুদূষণের সমস্যা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। মানুষ যেন উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ উপভোগ করতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

সাবরিনা সুলতানা মিশু

ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিকস, ঢাবি

অপরিকল্পিত নগরী বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে আরো বহু কিছু জড়িত। যদি আমরা ঢাকার কথা মনে করি তাহলে বুড়িঙ্গার কথা প্রথমে স্মরণ করতে হবে। বুড়িগঙ্গার দূষণের কারণে ঢাকায় বায়ুদূষণ বহুলাংশে বেড়ে গেছে। তাই পরিকল্পিত নগরী পরিকল্পনার সঙ্গে পরিবেশ দূষণ এবং বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা নিতে হবে। এজন্য রাজউক যখন বিল্ডিংয়ের অনুমোদন দিবেন তখন বৃক্ষরোপণের শর্তটি যুক্ত করতে পারেন। ছাদে বাগান করে বায়ুদূষণের আংশিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

বায়ুদূষণ বর্তমানে এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, একে ‘বায়ুসন্ত্রাস’ নামে অভিহিত করা যেতে পারে। এই বায়ুদূষণের ফলে আমাদের দেহে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমেই কমছে। ফলে আমাদের দেহে বিশেষ করে শিশু-বৃদ্ধরা বিভিন্ন ধরনের শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

ডা. মো. জামিল রহমান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

সম্প্রতি এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০২৫ সালের পরে আমাদের বিমানে চড়তেও ধাক্কা খেতে হবে। কারণ এখন বায়ুমণ্ডল ভারী হয়ে আসছে। সম্প্রতি পরিবেশবিদগণ আরেকটি সেমিনারে বলেছেন, সাভার বসবাসের অনুপযুক্ত। যেখানে-সেখানে কলকারখানা, বিশেষ করে অসংখ্য ইটভাটায় চরম বায়ুদূষণ সৃষ্টি করছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগুলো বন্ধ করতে হবে।

মো. সোলায়মান হোসেন

কাতলাপুর, সাভার, ঢাকা

ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নগরগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বায়ুদূষণের মাত্রা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে বিশ্বের অন্যান্য নগরীকেও। এই বায়ু দূষণকে প্রতিরোধ করতে হলে প্রয়োজন পরিকল্পনা। সবার সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় বায়ুদূষণ অনেকাংশে কমে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

অ্যাড. এস. কে. মো. রমিজউদ্দিন

কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা

ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ আমাদের সব ধরনের ক্ষতি ডেকে আনছে। তাই প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে বনায়ন ও পরিকল্পনা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।

শহীদুল ইসলাম

নিশিন্দারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়তে রয়েছে। সুতরাং এ অবস্থান থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

রাজধানীর  ৯৯ শতাংশ মানুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুষ অনিরাপদ বায়ুদূষণের মধ্যে বসবাস করছে। সেইসঙ্গে এই দূষণের মাত্রা যে আশেপাশের নগরীতে ছড়িয়ে যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যার ফলে মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের  বুদ্ধিমত্তা লোপ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকিও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই দায়ী। জনস্বাস্থ্য যেরকম মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এখনই অত্যন্ত জরুরি।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

হক ভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা

যুক্তিতর্কের ধারায় কেউ হয়তো বলবেন আগে উন্নয়ন হোক, পরে পরিবেশের বিষয়টি দেখা যাবে। কিন্তু আমি বলব না, সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় ভারসাম্য রক্ষা করেই আমাদের এগিয়ে চলতে হবে। পরিবেশকে এড়ানোর সুযোগ নেই। আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত উদ্বেগ বিশ্বব্যাপী অন্যতম জটিল ফ্যাক্টর হিসেবেই বর্তমান আবির্ভূত হয়েছে। সঙ্গত কারণে পরিবেশ-উন্নয়ন সম্পর্কটি তাই প্রায় সব আন্তর্জাতিক ফোরামেও আলোচিত হচ্ছে। সুতরাং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে উন্নয়ননীতিতে আমাদেরও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে সবার আগে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর

হ্যাঁ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ব্যাপক অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোর ওপর উন্নয়নই বায়ু দূষণের জন্য প্রধানত দায়ী। এছাড়াও  রয়েছে নগরায়ণের জন্য পর্যাপ্ত বৃক্ষ না থাকা। যানবাহন কলকারখানার জন্য বায়ুর দূষণরোধক চিলি চিমলি বা যন্ত্র ব্যবহার অনিহা প্রকাশ করা। ফলে কার্বনড্রাইঅক্সাইড, কার্বনমনোঅক্সাইড, সালফাড্রাইঅক্সাইড ইত্যাদি বায়ু দূষণ গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

সর্দারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ

সম্প্রতি বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে তার একটি বাংলাদেশ। সুতরাং এ কথা সত্য যে, রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নগরগুলোর বায়ুদূষণ কি হারে বাড়ছে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে এখনই নগরায়ণের জন্য কর্মসূচি নেওয়া খুবই গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

মো. সিকান্দার আলী

শান্তিনগর, ঢাকা

বায়ু দূষণের জন্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই দায়ী অনেকটা একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যেহেতু আমাদের দেশে উন্নয়নের অবকাঠামোতে অনেক কর্মকাণ্ড হয় বেমানানভাবে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন নিয়মতান্ত্রিক নগরায়ণ।

সোহাগ

ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা

বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ। এর মধ্যে জড়িয়ে আছে অনুমোদনবিহীন অবকাঠামো ও নিয়ন্ত্রণহীন সব কিছু। সুতরাং পরিকল্পিত নগরায়ণ নির্মাণ করতে হলে প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা কর্মকাণ্ড।

মো. হানিফ মিয়া

মনেশ্বর লেন, হাজারীবাগ, ঢাকা

শুধু কেবলমাত্র ঢাকায় নয়, সারাদেশব্যাপী চলছে বায়ু দূষণের মতো ক্ষতিকারক বিষয়। এজন্য দায়ী অপরিকল্পিত নগরায়ণ। এ থেকে আমাদের পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ প্রতিরোধের কর্মসূচি।

নয়ন

উত্তরা, ঢাকা

বায়ুদূষণ এখন শহর-বন্দর এমনকি গ্রাম-বাংলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। যারা বায়ু দূষণ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতর ব্যবস্থা নিতে হবে। আগামীতে এমন প্রত্যাশা আমরা নতুন প্রজন্ম রাখছি।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী

বায়ুদূষণ সবসময় ছিল আমাদের দেশে। কিন্তু বর্তমানে সে তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ইচ্ছেমাফিক কর্মকাণ্ড।

ফারুক আলম

মালিবাগ, ঢাকা

অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ, মানুষের অপরিণামদর্শী নানা কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের দেশে ক্রমে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। শিল্পবর্জ্যের প্রভাবে নদনদী দূষিত হচ্ছে, সনাতনী ইটভাটার মতো বেশি কার্বন নিঃসরণকারী কর্মকাণ্ডে কৃষিজমির উপরিস্তর ধ্বংসের পাশাপাশি গ্রাম-শহর সর্বত্রই প্রকোপ বাড়ছে বায়ুদূষণের। বলতে গেলে, সার্বিকভাবে আমাদের পরিবেশগত নাজুকতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। নিশ্চয়ই পরিবেশকে উপেক্ষা করেও উন্নয়ন সম্ভব, তবে সেই উন্নয়ন মোটেই টেকসই হবে না বলেই আমি মনে করি।

মোছা. বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল

ঢাকার বাতাসে ক্ষতিকারক বিভিন্ন ভারী ধাতুর উপস্থিতি সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ঢাকায় ধুলার মধ্যে ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, আর্সেনিকের মতো ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বেশি মাত্রায়। এতে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। ঢাকার বায়ু দূষণের জন্য, ঢাকার চারপাশের অসংখ্য ইটের ভাটা, ট্যানারি ও শিল্পবর্জ্য, অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে সময় সময় বিভিন্ন অভিযানও পরিচালনা করতে দেখা যায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে। কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই। সেজন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের যেমন আরো দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে তেমনি প্রয়োজন রয়েছে আইনের কঠোর প্রয়োগ।

আকতার হাবিব

সংবাদকর্মী, ঢাকা

বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার প্রধান কারণ যত্রতত্র কলকারখানা স্থাপন। নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন চলাচল। ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের জন্য এগুলোই দায়ী।

সালেহা আফরিন বেবী

শিবগঞ্জ, সিলেট 

নগরবাসীর বিনোদন ও ভালোভাবে বাঁচার জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজন খোলার মাঠ। পার্ক ও খেলার মাঠের সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

শিল্পবর্জ্য উপযুক্ত মাত্রায় পরিশোধন ব্যবস্থাপনা না করার ফলেই সেগুলো আজ বায়ূদূষণে পরিণত হয়েছে। মাটি, পানি, বাতাস সব কিছু আজ দূষিত করছে এই বায়ুদূষণ। সুতরাং এই দূষণ থেকে পরিত্রাণের জন্য সবার ঐকান্তিক চেষ্টা দরকার।

মো. আরিফুর রহমান

দেলপাড়া,নারায়ণগঞ্জ

বর্তমানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আমরা। পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে জনপ্রতি একটি গাড়ি, একটি বাড়ি, একটি কারখানা হলে ভালো হয়। আসুন সচেতন হই। দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ি। সবার জীবন সুন্দর ও সুস্থ থাকুক।

মো. আবদুর রাজ্জাক নাছিম

নির্বাহী পরিচালক, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতির ২০১৯ শীর্ষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সারা পৃথিবীতে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যুর চেয়েও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বায়ুজনিত রোগের কারণে। প্রতিবেদনে বলা হয় বায়ুদূষণের কারণে ২০১৯ সালে বাংলাদেশে অন্তত এক লাখ ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সুতরাং বায়ুদূষণ ভয়াবহভাবে ছাড়িয়ে গেছে। এ পরিস্থিতির জন্য আমরা নিজেরা আনেকাংশে দায়ী।

আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার

ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ। ফলে বাড়ছে নানাবিধ রোগ। এটা আশনি সংকেত।

মো. রবিউল হোসেন রবি

অ্যাডভোকেট, পুরানা পল্টন, ঢাকা

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকাগুলোতেও বায়ুদূষণের কারণে সুস্থ পরিবেশ নেই। পুকুর নদী, নালা, খাল বিল দখলের দৌরাত্ম্য থেকে দেশকে কোনো ভাবেই রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আরো পরিবেশ দূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কাজেই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিকল্পিত উন্নয়নই ও সচেতনতাই পারে আমাদের দেশকে বায়ুদূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে।

আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌ: (হিফজু)

উপদেষ্টা, নজরুল একাডেমি,

হাউজিং, রাজশাহী