গার্মেন্টসের বিক্রয়মূল্যে শ্রমিকের ভাগে ১.৬৫%!

শ্রমিকের ঘামে তৈরি হওয়া পোশাক যে দামে ইউরোপের একজন ক্রেতা  কেনেন, তার খুব সামান্য অংশই জোটে শ্রমিকের জন্য। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশন (এফডব্লিওএফ) হিসাব করে দেখেছে, একটি পোলো শার্ট যে দরে ক্রেতা ক্রয় করেন, তার মধ্যে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ পায় শ্রমিক। আর খুচরা বিক্রেতা যে অর্থ পান, এর মধ্যে শ্রমিকেরা পায় তিন শতাংশেরও কম। থাইল্যান্ডের পোলো শার্ট উত্পাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উত্পাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, রপ্তানি মূল্য ও চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত সব হিসাব করে এমন তথ্য জানিয়েছে এফডব্লিওএফ। গতকাল ঢাকার একটি হোটেলে এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ, ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশন ও নেদারল্যান্ডসের যৌথ উদ্যোগে ওই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অবশ্য সব কারখানার ক্ষেত্রে এই তথ্য একই হবে না বলে কর্মশালায় জানানো হয়। পরিসংখ্যান তুলে বলা হয়,  যে পোলো শার্ট জাহাজীকরণে (এফওবি) হয় ১৪ দশমিক ৭৭ ডলার তা ক্রেতার কাছে বিক্রি হয় ৬৯ দশমিক ৯৮ ডলারে। এর মধ্যে শ্রমিক পায় এক ডলার ১৬ সেন্ট।

অবশ্য ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের এমন হিসাবের সঙ্গে খানিকটা দ্বিমত রয়েছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র। সংগঠনটির সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, বাংলাদেশ মূলত স্বল্প মূল্যের পোশাক রপ্তানি করে। ফলে সেটি বিক্রিও হয় কম দরে এবং এখানকার রপ্তানিকারকরা পণ্যের দরও অনেক কম পায়। সেই হিসাবে বাংলাদেশে খুচরা মূল্যের বিবেচনায় শ্রমিকের প্রাপ্তি আরেকটু বেশি (২ দশমিক ৯৬ শতাংশ) এবং খুচরা বিক্রেতার প্রাপ্তির উপর তা ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। তিনি বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকদের আয়-ব্যয় ও একই পণ্যের বিক্রয় মূল্যের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে এ বক্তব্য দেন।

অবশ্য সম্প্রতি বাংলাদেশে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই উত্পাদন মূল্য বেড়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ক্রেতারা দর বাড়াচ্ছে না। বাংলাদেশে ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ম্যানেজার কোয়েন ওস্টেরম বলেন, সব কারখানার উত্পাদনশীলতা ও রপ্তানি মূল্য এক নয়। তবে মজুরি বৃদ্ধির কারণে বর্ধিত ব্যয়ে ক্রেতাদের অংশ নেওয়া উচিত। তবে একটি টি-শার্টের মূল্য ৫ থেকে ১০ সেন্ট বাড়ালে শ্রমিকের লিভিং ওয়েজ বা বাঁচার মতো মজুরি দেওয়া সম্ভব।

বিকেএমইএ সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, মজুরি বাড়লেও পোশাকের দর বাড়েনি। এর কারণ আমরা ব্যয় বৃদ্ধির হিসাবটি সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারিনি। এটি করা গেলে, ক্রেতার উপর বাড়তি চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে। এ সময় তিনি বলেন, মজুরি বৃদ্ধির পর কোনো কোনো কারখানা প্রয়োজনের অতিরিক্ত শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করছে এবং উত্পাদনশীলতা বাড়াতে নজর দিচ্ছে।

দিনব্যাপী ওই কর্মশালায় বিভিন্ন কারখানার কর্মকর্তারা অংশ নেন।