ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিখ যেভাবে ব্যাট করছেন তাতে অনেকেই তাকে ব্যাটিং কিংবদন্তী স্যার ডোনাল্ড ব্রাডম্যানের সাথে তুলনা করতে শুরু করেছেন। স্মিথ এবার অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৪১ এবং দ্বিতীয় টেস্টে অপরাজিত ২২৯ রান করেন। সিরিজে তার গড় ২০০-রও উপরে।
স্মিথ যে তার দেশকে এ্যাশেজ জেতানোর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন তাই নয়, তিনি যে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান তা আবার নতুন করে প্রমাণ করেছেন। ক্রিকেটের এযাবৎকালের অবিসংবাদিত সেরা ব্যাটসম্যান ডন ব্রাডম্যানের ব্যাটিং গড় ৯৯ দশমিক ৯৪, মাত্র ৫২টি টেস্টে, ৮০টি ইনিংসে। তিনি সেঞ্চুরি করেছেন ২৯টি।
আর এখন ক্যারিয়ার ব্যাটিং গড়ের দিক থেকে ঠিক স্যার ডনের পরেই আছেন স্টেভ স্মিথ - তার গড় এখন ৬২ দশমিক ৮৯ যা ব্রাডম্যানের পরের যে কারো চাইতে বেশি। তার পেছনে আছেন ভারতের বিরাট কোহলি (৫৩.৭৫), ইংল্যান্ডের জো রুট (৫২.৭৪), নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন (৫০.৬২)।
IMG0
এমন কি যারা 'গ্রে টদের মধ্যেও গ্রেটেস্ট' - সেই শচিন তেন্ডুলকার, ভিভ রিচার্ডস, লেন হাটন, ব্রায়ান লারা বা জ্যাক হবস- স্মিথের গড় তাদের চেয়েও বেশি। স্মিথ তার জীবনের পঞ্চম টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে। তখন থেকে এ পর্যন্ত তিনি সেঞ্চুরি করেছেন ২২টি। একই সময়কালে অন্য কেউ ১৭টির বেশি সেঞ্চুরি করতে পারেননি।
একই সময়কালে তার ব্যাটিং গড় ৭২ দশমিক ৭৬। এ সময়ে যারা ৩০টির বেশি ইনিংস খেলেছেন তার মধ্যে গড়ের দিক থেকে স্মিথের কাছাকাছি আছেন শুধু নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন- ৬৪ দশমিক ৮৯। শুধু এসব পরিসংখ্যান নয়, স্টিভ স্মিথকে তার রান ক্ষুধা, নিয়মিত বিরতিতে বড় সংখ্যায় রান করার জন্যও তুলনা করা হচ্ছে ব্রাডম্যানের সাথে।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মার্ক টেলর বলছেন, স্মিথের রান ক্ষুধা অপরিমেয়। যখন সে ব্যাট করে, আপনি দেখবেন - বোলার হাত থেকে বেরিয়ে আসা বল ছাড়া অন্য প্রায় কোন কিছু নিয়েই সে ভাবিত নয়।
IMG2
ডন ব্রাডম্যান বলতেন, ‘আমি স্টাইলের কিছুই জানি না, আমি যা চাই তা হলো রান করা।
কথাটা স্টিভ স্মিথের মুখেও মানিয়ে যায়, এমনই তার ব্যাটিং।
সাবেক ইংলিশ ওপেনার জেফরি বয়কট বলেন, স্টিভ স্মিথের ব্যাক লিফটের সময় ব্যাটটা তৃতীয় স্লিপের দিকে মুখ করা থাকে, তার পর গালীর দিকে, তারপর ব্যাটটা নেমে আসে। এটাও ব্রাডম্যানের সাথে খুব মিলে যায়।
তবে সাবেক ইংলিশ স্পিনার গ্রেম সোয়ান বলেন, ‘আমি স্টিভকে ব্রাডম্যানের সাথে তুলনা করবো না। ইদানিং সে যতই ভালো করুক- যখনই বল সু্ইং করে তখনই সে অথৈ সাগরে পড়ে যায়।’
‘ওর টেকনিক সুইং করছে এমন বল খেলার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়’- বলেন সোয়ান।
যেসব টেস্টে বল সুইং করছিল সেগুলোয় স্টিভ স্মিথের ব্যাটিং রেকর্ড পরীক্ষা করলে অবশ্য মনে হতেই পারে যে গ্রেম সোয়ানের কথাটা একেবারে ফেলনা নয়। তবে সবাই এর সাথে একমত নন। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান সাইমন কাটিচ বলেন, স্টিভ স্মিখ সব রকম কণ্ডিশনে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে খেলতে পারেন।
মজার ব্যাপার হলো - এই স্মিথ ২০১০ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলেছিলেন একজন লেগ-স্পিনার অলরাউন্ডার হিসেবে- ব্যাট করেছিলেন আট নম্বরে।-বিবিসি।
ইত্তেফাক/কেআই