লুক শ’র আত্মঘাতী গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটের প্রথম পর্বে বার্সেলোনাকে জয় উপহার দিলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নিজেদের মাঠে ১-০ গোলের এই হারের পরও আশা হারাচ্ছেন না ম্যান ইউ কোচ ওলে গুনার সোলসার। ইউনাইটেডের বিপক্ষে বার্সা এর আগে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে তিনবার জিতলেও কোনোটিই নকআউট পর্বে ছিলো না। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমের জয়টি ছিলো গ্রুপ পর্বে আর শেষ দুটি এসেছিলো ২০০৮-০৯ ও ২০১০-১১ মৌসুমের ফাইনালের মঞ্চে। তার উপর শেষ তিন মৌসুমে এই শেষ আট থেকেই বিদায় নিয়েছিলো কাতালানরা। তাই নিজেদের উপর এভারেস্টসম চাপ নিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে গিয়েছিলো কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দের শিষ্যরা। যার স্পষ্ট ছাপ পড়েছিলো দলের পারফর্মেন্সেও।
প্রথমার্ধের শুরুতেই শ’র আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেলেও মাঝমাঠে ইউনাইটেডের চাপের কাছে বারবারই বল হারাচ্ছিলো বার্সা। তবে রক্ষণভাগের দারুণ নৈপুণ্যে সেই অগ্রগামিতা ধরে রেখেই প্রায় তিন বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষের মাঠে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা। শেষবার জয় এসেছিলো এই ইংল্যান্ডের মাটিতেই। লিওনেল মেসির জোড়া গোলে ২০১৫-১৬ মৌসুমের শেষ ষোলয় আর্সেনালকে ২-০ গোলে হারিয়েছিলো তারা।
লিওনেল মেসিরা অবশ্য এই জয়ের পরও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছে না। কেননা আগের রাউন্ডেই আয়াক্স আমস্টারডাম ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ঘরের মাঠে বড় ব্যবধানে হেরেও ফিরতি লেগে সে ঘাটতি পুষিয়ে শেষ আটে এসেছে। একারণেই বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে বলেন, ‘পিএসজির বিপক্ষে তারা যা করেছে তা দেখার পর এই মুহূর্তেই লড়াই শেষ হয়ে গেছে ভাবার কোনো কারণ নেই। ফুটবলে যে কোনো কিছুই হতে পারে, তাই খুব কঠোরভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে আমাদের।’
পিকে দলের রক্ষণাত্মক প্রয়াস নিয়ে বলেন, ‘রক্ষণাত্মকভাবে আমরা দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছি। রক্ষণভাগে এই ম্যাচে আমাদের মৌসুমের সেরা ছন্দে ছিলাম আমরা। খুব তাড়াতাড়ি গোল পেয়ে যাওয়াটা আমাদের নিশ্চিন্ত হতে সাহায্য করেছিলো আর আমরা জানতাম কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।’ এদিকে ম্যানইউ কোচ সোলসার ঘরের মাঠে পরাজয়ের পরেও ন্যু ক্যাম্পে আরেকটা প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার ব্যাপারে আশাবাদী। এর আগে শেষ ষোলতে পিএসজির বিপক্ষে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে দুই গোলের ঘাটতি ফিরতি লেগে পুষিয়েই কোয়ার্টারে এসেছে তারা। সোলসার বলেন, ‘অবশ্যই, পিএসজির বিপক্ষে পারফর্মেন্সটা আমাদের আশা যোগাচ্ছে এবং সেটা করে দেখানোর জন্যে বিশ্বাসী হতে সাহায্য করছে।’
বার্সাও যে ছেড়ে কথা বলবে না সে ব্যাপারেও অবগত আছেন নরওয়েজিয়ান কোচ। সোলসারের ভাষায়, ‘আমরা জানি যে আমরা সম্ভাব্য ফেভারিটদের বিপক্ষে খেলছি এবং এটা আমাদের দারুণ পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে।’
সোলসারের বিশ্বাস, বার্সার মাঠে আবারো প্রথম লেগের ঘাটতি পোষাতে পারলে তা আরো বড় অর্জন হবে। তিনি বলেন, ‘বার্সার ইতিহাস, আর ঘরের মাঠে তাদের না হারার অভ্যাস মাথায় রাখলে এই জয় আরো বড় অর্জন হতে যাচ্ছে। আমরা এটা করতে পারি।’