নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) -এর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)। আজ মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা থেকে তাদেরকে আটক করে র্যাব ১১। দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় র্যাব।
আটককৃতরা হলেন- কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকার জাহিদুল ইসলাম কাওসার (৩২)ও গাইবান্দার সদরের মশিউর রহমান জীবন (২৮)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিতিত্তে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাক্ষন্দী ইউনিয়নের ইদবারদী ষ্ট্যান্ড এলাকা তাদের আটক করা হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও জঙ্গিবাদী লিফলেট উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, জাহিদুল ইসলাম ওরফে কাওছার ২০০৪ সালে রাজধানীর একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ২০০৪ সালে জনৈক জুয়েলের মাধ্যমে জেএমবি’তে যোগদান করেন এবং জেএমবির শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গি নেতা আরাফাত রহমান সানির মাধ্যমে জেএমবির সামরিক শাখার জন্য প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মঘাতী গ্রুপে নাম লেখান। এরপর থেকে আত্মগোপন করে থাকেন। পরে সে ২০০৭ সালে তার এক বাল্যবন্ধুর মাধ্যমে হিযবুত তাহরীহতে যোগদান করে ২০০৭ সালে থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করেন। ইতিপূর্বে র্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত মাওলানা ইসহাকের মাধ্যমে তিনি ২০১০ সাল থেকে পুনরায় জেএমবিতে কাজ করা শুরু করেন এবং মোহাম্মদপুরের বছিলায় জসিম উদ্দিন রাহমানীর মসজিদে যাতায়াত করতে থাকেন।
এর আগে র্যাব-১১ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত সৈয়দ রায়হান কবির ওরফে রায়হান ওরফে বাবুর মাধ্যমে তিনি ২০১৫ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগদান করেন এবং আনসার আল ইসলামের হয়ে কাজ করতে থাকেন।
মো. মশিউর রহমান ওরফে জীবন ২০১১ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি পাশ করে ফার্নিচারের দোকানে কাজ শুরু করেন এবং ২০১৩ সালে জনৈক লিটনের সঙ্গে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতার মধ্যদিয়ে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং লিটনের মাধ্যমে ঢাকার নন্দী পাড়াস্থ কোরআন সুন্নাহ একাডেমি মসজিদে যাতায়াত শুরু করেন এবং মসজিদের খতিব শায়েখ আরিফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই মসজিদে বিভিন্ন জঙ্গি যাতায়াতের মধ্য দিয়ে সংগঠনের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়।
তার বাসায় জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত একাধিক মিটিং হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন এবং তার বাসায় সাজিদ নামের এক জঙ্গি নেতা স্ত্রীসহ অনেক দিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের শেষের দিকে তিনি জনৈক শিপনের মাধ্যমে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগদান করে কাজ করতে থাকেন। এই ব্যাপারে আড়াইহাজার থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।
ইত্তেফাক/কেকে