গৌরনদীতে কলেজ ছাত্র সাকির হত্যাকাণ্ড

১ মাসেও গ্রেফতার হয়নি কোন আসামি, স্বজনদের ক্ষোভ

বরিশালের গৌরনদীর কলেজ ছাত্র সাকির হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার এক মাস পরেও পুলিশ কোন আসামিকে গ্রেফতার করেনি। এজন্য স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এনিয়ে এলাকায় এখনও চলছে চরম উত্তেজনা।

ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে  আসামিদের বাড়ী-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কয়েক দফা হামলা ও ভাংচুরসহ মহাসড়ক অবরোধ ও মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে নিহত কলেজ ছাত্র সাকিরের স্বজন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সাকির হত্যা মামলার আইও পরিবর্তন করা হলেও অভিযুক্তদের কাউকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।

জানা গেছে, বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সাকির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া সত্যেও তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।

সাকিরের মা আলেয়া বেগম ও বড় ভাই জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, ২১ নভেম্বর দুপুরে ঘটনার পরই স্থানীয়রা সাকিরের ওপর হামলাকারী ও হত্যা মামলার ৬ নং আসামি ফাহিমকে (১৮) ঘটনাস্থল থেকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

গৌরনদী থানার এসআই সামসুদ্দীন ফাহিমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।  কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ মামলার কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় নিহতের স্বজনরা  ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ নভেম্বর সকালে স্থানীয় বখাটে সোহেল গোমস্তা (২৮),ইলিয়াছ খান (২২), সুমন হাওলাদার (২৩) ও এমরান মির (২০), ফাহিমসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জন বখাটে যুবক কলেজ ক্যাম্পাসে এসে পালরদী মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপন কুমার রায়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সাকির এর প্রতিবাদ জানালে বখাটেরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। ওইদিন দুপুরে পরীক্ষা শেষে বাড়ী যাবার উদ্দেশ্যে শাকির কলেজের গেটের সামনে বের হলে ওই বখাটেরা ক্রিকেটের ব্যাট ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে তার মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়।

গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশাল শেরইবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বুধবার গভীর রাতে সাকির মারা যায়। এ ঘটনায় সাকিরের মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। কিন্তু গত ১ মাসেও কোন আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু