ধীরগতির ইন্টারনেটে হাটহাজারিতে গ্রাহক ভোগান্তি চরমে

 
উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মোবাইল অপারেটরগুলোর ধীরগতির ইন্টারনেটে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে গিয়ে ঠেকেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, থ্রি-জি ইন্টারনেট সেবা প্রদানের নামে অপারেটরগুলো প্রতারণা শুরু করেছে। দীর্ঘদিন থেকে থ্রি-জি ইন্টারনেট সেবার কথা বলা হলেও তা যেন নামেমাত্র পত্র-পত্রিকা ও বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ। ভালো সার্ভিসের আশায় বাধ্য হয়ে প্রায় সবকটি অপারেটরের সিম কিনেও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত গ্রাহকরা।
 
ভোগলিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাটহাজারীতে ৬ লক্ষাধিক জনগণের বসবাস। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় মোবাইল অপারেটরের মধ্যে দেশে অনুমোদিত সবকটি অপারেটরের গ্রাহক রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশী বেশী গ্রাহক রয়েছে রবি’র। এছাড়া অন্যান্য অপারেটরদের মধ্যে গ্রামীণফোন, বাংলালিঙ্ক, টেলিটকও রয়েছে। ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী অপারেটরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজে অবস্থানে রয়েছে রবি। গ্রামীণফোন অপেক্ষাকৃত ভালো সেবা দিলেও সামপ্রতিক সময়ে তাদের সেবার মানও খারাপের দিকে। এছাড়া বাংলালিঙ্ক ও টেলিটকের ইন্টারনেট স্পিড কিছুস্থানে ভালো হলেও সবস্থানে সন্তোষজনক নয়, আবার অনেক স্থানে থ্রি-জি সার্ভিসও পাওয়া যায় না।
 
মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা অপারেটরগুলোর বিভিন্ন ইন্টারনেট প্যাক কিনেও সেগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। বিভিন্ন স্পিডের ইন্টারনেট প্যাক থাকলেও তার গতি ২ জি এর চেয়ে ধীরগতিতে। সবচেয়ে বেশী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রবি গ্রাহকরা। এয়ারটেলের ইন্টারনেট স্পিড একসময় ভালো থাকলেও তা রবির সাথে যুক্ত হওয়ার পর স্পিড উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এমনকি অনেকক্ষেত্রে রবি টাওয়ারের নীচে অবস্থানকারীরাও থ্রি-জি স্পীডে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না। আবার বেশ কিছুদিন ধরে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট স্পিডও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। অনেকসময় নেট সংযোগ থাকেই না। তবে কিছু কিছু এলাকায় গ্রামীণ, বাংলালিঙ্ক ও টেলিটক ইন্টারনেট স্পীড থ্রিজি’র মতো হলেও অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট স্পিড খুবই ধীর গতিতে। ভূক্তভোগী গ্রাহকরা মোবাইল অপারেটরদের বাজে ইন্টারনেট সার্ভিসের প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের কার্যক্রমে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
 
হাটহাজারী কলেজ ছাত্র জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘একসময় গ্রামীণফোন ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহার করতাম। এখন স্লো স্পিড হওয়ার কারণে টেলিটক ব্যবহার করছি। তবে সব জায়গায় টেলিটকের থ্রি-জি স্পিড পাচ্ছি না। রবি ব্যবহার করি শুধু কল করা ও রিসিভ করার জন্য। আসলে অপারেটরগুলো ভালো সার্ভিস দিলে আমরা একটি সিম দিয়ে এ সংক্রান্ত সব কাজ করতে পারতাম।”
 
উপজেলা ই-সেন্টারের উদ্যোক্তা রুবেল জানান, উপজেলায় আগতদের একসময় রবি ও পরে গ্রামীণফোন ইন্টারনেট দিয়ে সেবা দিতাম। ভালো সার্ভিস না পাওয়ায় এখন তা বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্তায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করছি।
 
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার উননেছা শিউলী বলেন, উপজেলায় মোবাইল অপারেটগুলোর থ্রি-জি সার্ভিস সন্তোষজনক নয়। বিষয়টি তাদের গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার দরকার রয়েছে।
 

ইত্তেফাক/এএম।