নালিতাবাড়ীতে ব্যক্তিমালিকানা জমিতে খাল খননে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় রাতের আঁধারে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে খাল খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৬৭ জন স্বাক্ষরিত অভিযোগটি নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষিমন্ত্রী বরাবর দেয়া হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে খনন কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

জানা গেছে, উপজেলার বাঘবে ইউনিয়নের উমতা বাঘবের মৌজায় চাষাবাদে জন্য ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল খননের কাজ শুরু করেছে সরকার। এলাকাবাসীর অজ্ঞাতসারে গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি ভাড়া করা খননযন্ত্র দিয়ে খাল খননের কাজ শুরু করেন সরকার দলীয় স্থানীয় কয়েকজন নেতা। কৃষিজমি নষ্টে তাত্ক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ জানায় এবং প্রতিকারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বরাবর একটি প্রতিবাদলিপি প্রদান করেন। এলাকাবাসী জানায়, যেখান দিয়ে খালটি খনন করা হচ্ছে, এখানে খালের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

উমতা বাঘবের মৌজায় প্রায় দু’হাজার একর জমিতে গভীর নলকূপের পানি দিয়ে সবসময় চাষাবাদ করা হয়। এখানে বন্যারও কোনো প্রভাব নেই। তাই এ এলাকায় খালের প্রয়োজন কতটা তা বোধগম্য নয়। তারা জানান. জোরপূর্বক এ খাল খনন করা হলে প্রান্তিক চাষিরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ওই গ্রামের বিধবা ফাতেমা বেগম জানান, ৩০ বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছেন। ৩০ শতাংশ জমির ওপর নির্ভর করে তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে অভাবের সংসার। তার জমির পুরোটুকুতেই খাল খনন করা হয়েছে। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমি এখন কোথায় যাবো। চাঁন মিয়া  নামের এক কৃষক জানান, আমার ক্ষেতে আধাপাকা ধান।

রাতের অন্ধকারে ধানের ওপর বেকো মেশিন দিয়ে খনন শুরু করলে, আমি হাতে-পায়ে ধরে এক সপ্তাহ সময় চাইলেও তারা আমাকে দেয়নি। আমার সামনে এখন শুধুই অন্ধকার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই মৌজার অদূরে বালুচর গ্রামের পূর্বপাশে একটি খাল সংস্কারবিহীন পড়ে আছে। যা সংস্কার করলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। অথচ সে খালটি সংস্কারের কোনো পরিকল্পনা নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরফদার সোহেল রহমান জানান, আমি খাল খনন বন্ধের জন্য একটি আবেদনপত্র পেয়েছি। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়েছি।

ইত্তেফাক/নূহু