শিশু নিযার্তনের মামলাগুলো ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ১৫তম চাইল্ড পার্লামেন্ট অধিবেশনে ‘শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি’ শীর্ষক চাইল্ড পার্লামেন্ট-এ শিশুদের প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রী একথা বলেন।
১৬টি বিশেষ অঞ্চলের শিশুসহ মোট দেড়শতাধিক শিশু প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এবারের চাইল্ড পার্লামেন্ট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমী এর সহযোহিতায় প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরেও ১৫তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের চাইল্ড পার্লামেন্টে প্রধান অতিথি ছিলেন- আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল হক।
এবারের অধিবেশনে শিশু হত্যার প্রশ্নের উত্তর আনিসুল হক বলেন, শিশু অপহরণ, গুম, হত্যা এবং শিশুদের প্রতি সকল ধরনের নির্যাতন একই সূত্রে গাথা তাই এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত সকল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে যাতে করে এ ধরনের অপরাধ পুনরায় সংগঠিত না হয়।
শিশুরা বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে শিশু আইন ২০১৩ কার্যকরি বাস্তবায়নে লোকবল, কারিগরী সহযোগিতা এবং বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির জোর দাবি জানায়। মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাজেট বাড়ানোর জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করবেন।
শিশু নির্যাতন বন্ধে পিতা-মাতা ও শিক্ষকের ভুমিকা সবচেয়ে বেশি এবং শিশুর প্রতি পারিবারিক সহিংসতা বন্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে এবং সর্বপ্রথম বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘শিশু সংক্রান্ত্র আইন বাস্তবায়নে ও শিশু অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সবই করবো। শিশু নির্যাতন করে কেউ পার পাবেনা । এইসব শিশুই দেশের নের্তৃত্বে থাকবে, তাদেরকে উন্নত রাষ্ট্রের উপযোগি করে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের।’
অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড রাইটস গভার্নেন্স বিভাগের প্রধান লায়লা খন্দকার, প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর, অর্লা মারফী এবং চাইল্ড রাইটস এন্ড প্রটেকশন বিভাগের প্রধান তানিয়া নুসরাত জামান।
চাইল্ড পার্লামেন্টের স্পিকার মেফতাহুন নাহার বলেন, ‘আমরা শিশু সহায়ক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিশুদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নীতি-নির্ধারকদের নিকট তুলে ধরি। ইত্যমধ্যে, আমরা ১৪টি অধিবেশন সাফল্যজনকভাবে সমাপ্ত করেছি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন, সুরক্ষা, জাতীয় বাজেটে শিশুদের জন্য বরাদ্দ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার বন্ধ করাসহ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বন্যার ফলে শিশুদের শিক্ষা ক্ষেত্রে ক্ষতি প্রভৃতি।
ইত্তেফাক/ইউবি