শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবরুনা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ঢেউপা নদীতে যত্রতত্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে স্থানীয় একাধিক বালু দস্যু চক্ররা।
অপরিকল্পিতভাবে সীমান্ত জনপদের পাহাড়ি নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে রয়েছে খ্রিষ্টান সমপ্রদায়ের গির্জা, আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদিবাসীদের সংগঠন টি.ডব্লিউ.এ অফিস, বেসরকারী এনজিও অফিসসহ বাঙ্গালী ও আদিবাসীদের বসতবাড়ি। স্থানীয় সীমান্ত জনপদের গ্রামবাসীদের অভিযোগ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের তত্পরতা কম। ফলে কয়েকহাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক মেঘাদল/বাবেলাকোনা পাহাড়ি রাস্তাটি আজ নদীগর্বে বিলীন হওয়ার পথে। নদীর দু’পাড়ে বসবাসরত গ্রামবাসীরা তাদের পৈতিক বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। অবহেলিত সীমান্ত অঞ্চলের আদিবাসী সমপ্রদায়কে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার প্রত্যয়ে একটি আদিবাসি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পাশ থেকে বালু উত্তোলন করায় স্কুলটির একটি অংশ নদীগর্বে বিলীন হতে বসেছে।
বিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাথেকে বালু উত্তোলন করার কারণে রাস্তাাটি বিলিন হয়ে গেছে। এখন আমরা নিয়মিত পায়ে হেটে স্কুলে যেতে পারছে না। স্কুলে যেতে নানা সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছি। বিদ্যালয়টির এক শিক্ষক ক্ষোভের সাথে বলেন, প্রশাসন তত্পর হলে কিছুদিনের জন্য বালু উত্তোলন বন্ধ থাকে। আবার তারা নিরব হলেই শুরু হয় বালু খেকুদের বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরাও তাদের বিরুদ্ধে কোনোই প্রতিবাদ করতে পারছি না।
জানতে চাইলে শেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগেও ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৪২টি মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। আমার লোকরা ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে একটু অন্য কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে এই সুযোগটা বালু দস্যুরা কাজে লাগিয়েছে। ঠিক আছে আবার ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।
ইত্তেফাক/এএম।