দেলদুয়ারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্বিষহ জীবন

 
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের শৈলকুড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা এখন দুর্বিষহ জীবন করছেন। অনেকে একবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন অতিবাহিত করছেন বলে জানা গেছে।
 
সরজমিন পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে তাদের এসব দুঃখ দুর্দশার কথা জানা যায়। গৃহহীন ও ভবঘুরে লোকদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার জন্য সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্প চালু করে। সরকারের সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় লাউহাটী পাকুল্লা সড়কের শৈলকুড়িয়ায় রাস্তার পূর্ব পাশে প্রায় ৪ একর খাস জমির উপর ২০০০-২০০১ অর্থবছরে ৪টি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট আর্টিলারি ব্যারাকগুলো নির্মাণ করে। প্রতিটি ব্যারাকে ১০টি করে ৪টি ব্যারাকে মোট ৪০টি পরিবার বাস করছে। ব্যারাকের চাল ও বেড়া টিনের, নিচে মাটি। এছাড়া প্রায় একশ' গজ পশ্চিমে ৪ একর খাস জমির উপর ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে আরো ৬টি আধপাকা ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। ১১ আর ই ব্যাটালিয়ন ব্যারাকগুলো নির্মাণ করেন।
 
বর্তমানে সবগুলো ব্যারাক মিলে প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। অভাব অনটন আর নানা সমস্যায় তারা বাস করছেন এখানে। পশ্চিম পাশের ব্যারাকে একটি মরা নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ব্যারাকে যেতে হয়। বাসিন্দাদের দাবি একটি রাস্তা ও পাকা ব্রিজ নির্মাণের। প্রায় দেড় বছর আগে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে ১টি ব্যারাক আগুনে পুড়ে যায়। বাসিন্দাদের অনেক ক্ষতি হয়। তারা অন্যান্য ব্যারাকে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু আজও ব্যারাকটি সংস্কার বা নির্মাণ করা হয়নি। ব্যারাকগুলোর টিনের চাল বেড়া ভেঙে গেছে। চাল দিয়ে পানি পড়ে। টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। খাবার পানির জন্য টিউবওয়েল দরকার। পশ্চিম পাশের ব্যারাকে একটি টিনের মসজিদ থাকলেও ঝড়ে ভেঙে গেছে। বাসিন্দাদের মাছ চাষের জন্য একটি পুকুর থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। পুকুরটি খনন করা প্রয়োজন।
 
সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের। অধিকাংশ নারী পুরুষ দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঝড় বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কাজ করতে না পারলে অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হয়। দু/চারজন জুতার ব্রাশ তৈরি করে সামান্য রোজগার করেন। এখানে কয়েকজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রয়েছেন। তারা ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাসিন্দাদের নামে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, ভিজিএফ, ভিজিডিসহ সরকারি সহযোগিতার কোন কার্ড বরাদ্দ নেই বলে তারা জানান। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা কমর উদ্দিন (৭০) বলেন, 'বাবা খুব কষ্টে আছি। সরকারি কোন সাহায্য পাই না। ঠিকমত কাজ কামও করতে পারি না। মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকি।'
 
গেন্দু সান্দার (৭৬) নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, হাটে হাটে পুরনো তালা, ছাতা মেরামত করে কোন রকমে চলছি। কপালে কোন ভাতার কার্ড জোটেনি। এখানে আশ্রয় নেয়া সবাই খুব কষ্টে আছি। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করতো তাহলে আমরা একটু ভালো থাকতে পারতাম।
 
IMG0
 
শৈলকুড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের সভাপতি আনিস মিয়া নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, ভোটের সময় এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার এখানে আসেন ভোট চাইতে। কিন্তু তারপর কেউ আমাদের খবর নেয় না। বাসিন্দারা কোন সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছে না। এমনকি বছরে দুটি ঈদেও আমরা কোন কিছু পাই না। এ ব্যাপারে সদ্য যোগদানকৃত দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, 'আমি সরজমিন পরিদর্শন করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের খোঁজ খবর নেব। এছাড়া তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করা হবে।'
 
ইত্তেফাক/জামান