এক সময় বিনা পয়সায় চা খাওয়াতো ব্রিটিশরা। অভ্যাস হওয়ার পর বাঙালিরা টাকা দিয়ে চা কিনে খাওয়া শুরু করে। আর চা খেয়ে সম্মাননা পেয়েছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ৩০জন গ্রাহক।
শনিবার শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল। রঙ্গিন সাজে সজ্জিত চারপাশ। বিভিন্ন পেশার মানুষ সমবেত হয়েছে গৌরীপুর ‘হারুন টি হাউজে’। গল্প, খাওয়া-দাওয়া, হাসি-আনন্দ। এ যেন এক মিলনোৎসব। এমন বর্ণাঢ্য ও সৌহার্দপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো সেরা চা গ্রাহক সম্মাননা পুরস্কার। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা হলেন হারুন টি হাউজের মালিক হারুন অর রশীদ। তিন বছর আগে মাত্র পাঁচশ টাকা পুঁজি নিয়ে গৌরীপুর শহরের সোনালী ব্যাংকের সামনে চায়ের দোকান শুরু করেছিলেন হারুন। প্রথম দিকে প্রতিদিন পাঁচশ টাকা মতো চা বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যেসব গ্রাহক হারুনের দোকানে নিয়মিত চা খেতে আসেন। তাদের মধ্য থেকে ৩০জন গ্রাহককে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর শাখার সভাপতি আইনজীবী আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গ্রাহকদের হাতে সম্মাননার পুরস্কার তুলে দেন।
পুরস্কার পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে গ্রাহক শ্যামল ঘোষ বলেন, গৌরীপুর শহরে দুই শতাধিক চায়ের দোকান থাকলেও, হারুন টি হাউজ প্রথম গ্রাহকদের সম্মাননা দিলেন। আমার মনে হয়ে চা গ্রাহকদের সম্মানিত করতে দেশে এটাই মনে হয় প্রথম উদ্যোগ। আমি হারুন টি হাউজের ব্যবসায়িক সফলতা কামনা করছি।
আরেক গ্রাহক সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, হারুন টি হাউজের সেবায় আমি মুগ্ধ। কারণ হারুনের মুঠোফোনে কল কিংবা ম্যাসেজ করলেই আমাদের বাসায় চা পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও দোকান যদি কোনো দিন বন্ধ থাকে অথবা খুলতে দেরি হয়, তাহলে সেটা গ্রাহকদের মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে আগের দিন জানিয়ে দেওয়া হয়। এই ধরনের আন্তরিক গ্রাহক সেবা গৌরীপুরের আর কোনো চায়ের দোকানে পাওয়া যায় না।
হারুন অর রশিদ বলেন, প্রতিদিন প্রায় তিনশ গ্রাহক আমার দোকানে চা খান। তাই গ্রাহকদের সাথে দৃঢ় সেতুবন্ধন করতেই আমি গ্রাহক সম্মাননা পুরস্কার চালু করেছি। সম্মাননা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের লেনদন, আন্তরিকতা ও আচার-ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর এই সম্মাননা দেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি