নিখোঁজের তিনদিন পর শুক্রবার দুপুরে শিশু খাদিজার (৭) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয় অভিযুক্তের বাড়ির পেছনের পুকুর থেকে। তার শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন। পরিবারের অভিযোগ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে।
এঘটনায় শুক্রবার দুপুরে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের মোশাররফ হোসেন বাদল ভক্তি (৪২), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৮) ও বাদলের ভাতিজা নজরুল ইসলামকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশু খাদিজা গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের বিলশা গ্রামের মনিরুল ইসলামের মেয়ে। খাদিজা বিলশা দাখিল মাদরাসার ২য় শ্রেণিতে পড়তো।
শুক্রবার রাতেই ৬জনকে অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত শিশুর পিতা মনিরুল ইসলাম। মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন, বাদলের ছেলে নাজমুল (২২), প্রতিবেশি শহিদুল ইসলাম (৩৬), দেলোয়ার হোসেন (৪০)। তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও বাকিরা পলাতক রয়েছে। শনিবার রাতে বিলশা কবরস্থানে শিশুটিকে দাফন করা হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলিপ কুমার দাস বলেন, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন শিশুর পিতা। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত হত্যার ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, বিলশা ভক্তি পাড়ায় খাদিজাদের বাড়ি। অভিযুক্তদের বাড়িও পাশাপাশি। বুধবার দুপুর থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। সেদিনই ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন অভিযুক্ত নাজমুল (২২)। তিনি ঢাকার একটি অর্নাস কলেজের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বুধবার বিকালে অভিযুক্ত নাজমুলের সাথে শিশুটিকে দেখা যায়। এরপর থেকে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার সকালে নাজমুলের বাড়ির পেছনের পুকুরে শিশু খাদিজার বস্তাবন্দি লাশ ভেসে ওঠে। তখন ঘটনাটি প্রকাশ পায়। তাছাড়া নাজমুলদের বাড়ির পরিত্যাক্ত ঘর থেকে রক্তমাখা একটি পিঁড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিশুর পিতা মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত নাজমুল তার মেয়েকে কৌশলে অপহণ করে ধর্ষণ শেষে হত্যা করেছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই লাশটি বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে। এরআগে ২০১২ সালে নাজমুলের পিতা বাদলা, দেলোয়ার, শহিদুলসহ অভিযুক্তরা তার চাচাতো ভাই শাহলমকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে। তারা সকলেই ওই হত্যা মামলার আসামি (বর্তমানে জামিনে রয়েছেন)। মূলত তখন থেকেই তাদের সাথে অভিযুক্তদের বিরোধ শুরু। সেই বিরোধের সূত্রধরেই তার শিশু সন্তান খাদিজাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশটি বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানান।
গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তারেকুর রহমান সরকার জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাদল ভক্তির ঘর থেকে রক্তমাখা একটি পিঁড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি