ইত্তেফাক নিয়ে যদি বলতে হয় তাহলে প্রথমেই একটা নাম চলে আসে। তিনি তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। সবাই শুধু জানতেন তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, তিনি একটা পত্রিকা বের করতেন... ব্যস। কিন্তু তিনি একজন কত বড়মাপের মানুষ সেটা হয়তো অনেকেই জানে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে যে তার কত বড় ভূমিকা রয়েছে তা অনেকেই জানে না। ইত্তেফাকের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কয়েকবছর আগে ওনাকে নিয়ে ওনার ছেলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। আমি সেই অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, মানিক মিয়ার কথা বলে-লিখে কখনও শেষ হওয়ার নয়। আমি যদি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দৌড়ে দৌড়ে ওনার নাম চিত্কার করতে পারতাম তাহলে আমার খুব ভালো লাগতো।
দেশ স্বাধীন হওয়ার যত নেপথ্য কারিগর রয়েছে তার মধ্যে মানিক মিয়ার ইত্তেফাক অন্যতম। শুধু তাই নয়, আওয়ামীলীগের সৃষ্টিতেও এই সিংহপুরুষের অনন্য ভূমিকা রয়েছে। আমরা যখন তরুণ ছিলাম তখন সবাই ইত্তেফাকের নিয়মিত পাঠক ছিলাম। ইত্তেফাক দেখলেই মনে হতো, এটা নিজেদের পত্রিকা। ইত্তেফাকে যেটা ছাপানো হতো সেটাকেই আমরা সঠিক বলতাম।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ইত্তেফাক যেমন বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে তেমনি চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইত্তেফাক নানা ক্রান্তিকাল পেরিয়ে এখনও স্বমহিমায় পাঠকদের সঠিক তথ্য দিয়ে আসছে। সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয় হলো, ইত্তেফাক কখনও প্রভাবিত সাংবাদিকতা করে না। ইত্তেফাকের এখনকার অবস্থাও ভালো। মনে রাখতে হবে, ইত্তেফাক শুধু মানিক মিয়ার নয়, এটা এদেশের সম্পত্তি। ইত্তেফাক নিজের সুনাম নিয়ে টিকে থাকুক সেটাই প্রত্যাশা করি।
৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইত্তেফাক পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ইত্তেফাক/আনিসুর