মহৎমানস

মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত আহ্ছানিয়া মিশন

 
কেউ যদি জানতে চায়, আহ্ছানিয়া মিশনের অর্জন কী? আমি কোনো পদক বা পুরস্কারের কথা বলব না। আমি একবাক্যে বলব—মানুষের মুখের হাসি। এখানের প্রত্যেকটি সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিয়ে যখন মানুষের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, তখন এক অন্যরকম স্বর্গীয় আনন্দে মন নেচে ওঠে। মনে হয় পৃথিবীর সব পদক, সব পুরস্কার ওই হাসির কাছে তুচ্ছ। তাই আমি দৃঢ়তার সঙ্গেই বলব, এই দীর্ঘ সময়ে আহ্ছানিয়া মিশন মানুষের ভালোবাসা এবং মুখের হাসির চেয়ে দামি আর কিছু অর্জন করেনি
 
আমাদের দেশে যতগুলো কল্যাণব্রতী প্রতিষ্ঠান আছে, আহ্ছানিয়া মিশন তার মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। মানবদরদি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার (১৮৭৩-১৯৬৫) আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সাধনার ফলে গড়ে ওঠে আজকের আহ্ছানিয়া মিশন। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন শিক্ষাবিদ, শিক্ষাসংস্কারক, সাহিত্যিক, ধর্মবেত্তা ও সমাজসেবক। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন একজন কামেল সুফি। তিনি খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলেন, ‘সৃষ্টির সেবার মাধ্যমেই স্রষ্টাকে পাওয়া যায়’। এ উপলব্ধি থেকেই তিনি নিজ গ্রাম নলতায় (সাতক্ষীরা) আহ্ছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। এক্ষেত্রে তিনি নবীজি (সা.)-এর মানবকল্যাণ সংঘ হিলফুল ফুজুল এবং রামকৃষ্ণ মিশনকে মডেল মনে করে আহ্ছানিয়া মিশনের কার্যক্রম এগিয়ে নেন।
 
এটা ১৯৩৫ সালের গল্প। তখনকার সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না। মানুষের মন ছিল ভয়াবহ রকম কুসংস্কারাচ্ছন্ন। গ্রামে গ্রামে কলেরা-যক্ষ্মার মতো ভয়ংকর রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ত। এসব রোগে মানুষ মরে গ্রাম কে গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। শহর থেকে দূরে হওয়ায় গ্রামের মানুষ ভালো চিকিত্সাও পেত না। মানুষের এই অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে মানবপ্রেমী খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার মন দরদে কেঁদে ওঠে। তিনি আহ্ছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করে হাড়-হাভাতে মানুষের পাশে দাঁড়ান। শিক্ষার আলো জ্বালেন নিরক্ষর মানুষের মনে। অসুস্থদের চিকিত্সা এবং দুঃস্থদের খাদ্য-বস্ত্র এবং বাসস্থানের সুন্দর ব্যবস্থা করেন।
 
খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার মহত্ এ উদ্যেগে সাধারণ মানুষ আগ্রহের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মানুষ নিজেরাই মাটি কেটে কঠোর পরিশ্রম করে রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করে। নিজেরাই স্কুলঘর নির্মাণসহ জনকল্যাণমূলক নানান কাজে অংশগ্রহণ করে। মানুষের এ উদ্যম দেখে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে একাধিক আহ্ছানিয়া মিশন গড়ে তোলেন মানবদরদি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের পথচলা।
 
শুরুর দিকে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ধর্মপ্রাণ মুসলামানদের থেকে জাকাত সংগ্রহ করে মেধাবী ও দুঃস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করত। এছাড়া সে-সময় অসুস্থ ও অন্ধদের জন্যেও উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে এ প্রতিষ্ঠান। তবে এখনকার মতো এত ব্যাপক আকারে কাজ হয়নি। ১৯৭৬ সালের পর থেকে আহ্ছানিয়া মিশন অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করে। তখন থেকে আমাদের কার্যক্রম আরো ব্যাপক ও বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে। আজ বাংলাদেশে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন একটি নির্ভরযোগ্য মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে আমরা অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
 
আহ্ছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা দেশের মানুষের নিরক্ষতা নিয়ে খুব ভাবতেন। তিনি বলতেন, শিক্ষাই একটি জাতিকে মুক্তি দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই আহ্ছানিয়া মিশন শিক্ষার ওপর জোর দেয়। তাই ১৯৮৫ সাল থেকে নিরক্ষরতা দূর করার জন্য আমরা বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করি। প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন অফিস-আদালত ও বাসা-বাড়ির কাজের ছেলে-মেয়েদের জন্য আমরা রাত্রিকালীন শিক্ষাসেবা চালু করি। আনন্দের সঙ্গেই বলছি, বর্তমানে আমাদের স্কুল থেকে প্রতি বছর দুই লাখেরও বেশি মানুষ প্রাথমিক শিক্ষার আলো পাচ্ছে। একইসঙ্গে প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের মাধ্যমে হত-দরিদ্রদের মাঝেও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।
 
এখানেই থেমে নেই আহ্ছানিয়া মিশনের শিক্ষা কার্যক্রম। আরো উন্নত শিক্ষাসেবার লক্ষ্যে আমরা গড়ে তুলি আহ্ছানিয়া ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এটা প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৯৫ সালে। তখন আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় মেধাবীরা বিদেশে পাড়ি জমাত। এতে করে মেধা পাচার তো হতোই, সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিরও শিকার হতো জনগণ। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম—এত বড় ক্ষতি থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। এজন্য প্রয়োজন একটি যুগোপযোগী বিশ্ববিদ্যালয়। এই চিন্তা থেকেই প্রতিষ্ঠা করি অত্যাধুনিক এই ইউনিভার্সিটি। আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—সেই ১৯৯৫ সাল থেকেই আমরা টেকনোলজিতে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ার কাজ করে আসছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যুগোপযোগী টেকনোলজিক্যাল ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন করে আজ দেশ ও দেশের বাইরে সেরা সেরা প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। একইসঙ্গে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
 
আমরা যারা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য কাজ করছি—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। গত তিন দশকে আমরা অপ্রাতিষ্ঠানিক মৌলিক ও অব্যাহত শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা উন্নয়ন, পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ, শিশু অধিকার এবং শিশুশ্রম রোধ, ধূমপান ও মাদকাসক্তি এবং এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ, দারিদ্র্য বিমোচন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, শিশু ও নারী পাচার রোধ, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ‘সবার জন্য শিক্ষা’সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে।
 
মাদকাসক্ত যুবকদের উন্নয়নের মূলধারায় পুনর্বাসনের জন্য ঢাকা ও যশোরে ৩ টি মাদক নিরাময় এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা করছি। সাথে সাথে নারী ও শিশু পাচার রোধে কাজ করছি। দেশের সীমান্তবর্তী ৬টি জেলার ১৭টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত। পাচার থেকে উদ্ধারকৃত নারী ও শিশুদেরকে আশ্রয় এবং পুনর্বাসনের লক্ষ্যে যশোরে একটি ৪০ শয্যা বিশিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
 
আহ্ছানিয়া মিশনের অন্যতম একটি সেবা-প্রকল্প হলো আহ্ছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতাল। মানুষ যেন কম খরচে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিত্সা পেতে পারে—এ কথা চিন্তা করেই আমরা এত বড় প্রকল্প হাতে নিই। ক্যানসার হাসপাতাল শুরুর গল্প আমার জন্য তেমন আনন্দদায়ক নয়। তখন ১৯৯৪ সাল। আমার জীবনসঙ্গিনীর ব্রেস্ট ক্যানসার ধরা পড়ে। প্রথমেই যে ধাক্কাটা খেলাম তা হলো, বাংলাদেশে তখন উন্নতমানের ক্যানসারের কোনো চিকিত্সাই ছিল না। আমার স্ত্রীকে নিয়ে ভারত, সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশে ছোটাছুটি করলাম। পাঁচ বছর এভাবেই কেটে যায়। ১৯৯৯ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। তখন আমি দারুণভাবে আঘাত পাই। আমার শোকাতুর হূদয়ে একটি কথাই বারবার বেজে ওঠে। ভাবলাম, আমার স্ত্রীকে নিয়ে এত দৌড়াদৌড়ি করলাম, কিন্তু এ দেশের সব মানুষের পক্ষে তো এভাবে ছোটাছুটি করা সম্ভব নয়। একটি নিম্ন আয়ের মানুষ এত টাকা পাবে কোথায়। তাছাড়া তত্কালে আমাদের দেশে ক্যানসারের ভালো চিকিত্সা না থাকায় বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে চলে যেত। অথচ চাইলে দেশের টাকা দেশেই রাখা যায়। এসব ভেবেই ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণে হাত দিই। বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ এ কাজে আমাদের ডাকে সাড়া দেয়। তাদের সকলের আর্থিক সহযোগিতায় এই হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে। এখানকার চিকিত্সা-সেবা খুবই সাশ্রয়ী। তাছাড়া শতকরা ত্রিশ জন রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিত্সা দিই আমরা। এরপরও অনেক দরিদ্র রোগী আসেন যাদের আমরা আর্থিক সাহায্য করে থাকি।
 
আমাদের আছে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচি। এখান থেকে ভিক্ষুকরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে সুন্দর জীবনে ফিরে যাচ্ছে। আমরা অবহেলিত নারীদের নিয়েও কাজ করছি। তাদের বিভিন্ন ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে শিক্ষার আলোও ছড়িয়ে দিচ্ছি। এ ছাড়াও আমাদের উল্লেখযোগ্য আরেকটি প্রকল্প হলো—আহ্ছানিয়া মিশন শিশুপল্লী। যে-সব শিশু ছিন্নমূল, পথে পথে ঘুরে বেড়ায়, ভিক্ষা করে—তাদের বেছে বেছে আমরা আমাদের পল্লীতে নিয়ে আসি। এখানে এদের পড়াশোনা ও থাকা-খাওয়ার সুন্দর ব্যবস্থা আছে। শিশুপল্লীতে তারা গান-বাজনা, খেলাধুলা করছে ও ছবি আঁকা শিখছে। অন্যান্য এতিমখানার চেয়ে একেবারে ভিন্ন পদ্ধতিতে এসব শিশুকে গড়ে তুলি আমরা। এতিমখানার শিশুরা কালেকশনের জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। মুষ্ঠিভিক্ষা করে। মাদরাসা-মসজিদের জন্য অনুদান সংগ্রহ করে। কিন্তু আমাদের পল্লীর শিশুদের দিয়ে এ ধরনের কোনো কাজ করানো হয় না। তারা এখানে স্বাধীনভাবে নানান কাজকর্ম শিখছে। পড়াশোনা করছে। ভোকেশনাল কাজ শিখছে। ১৮ বছর হলে স্বাবলম্বী হয়ে শিশুপল্লী ছাড়ছে। এটা আমাদের জন্য, আমাদের দেশের জন্য সত্যিই অনেক আনন্দের বিষয়। গর্বের কথা।
 
আমাদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা আছে—দশটি চিলড্রেন ভিলেজ নিয়ে একটি চিলড্রেন সিটি করব। প্রতিটি ভিলেজে এক হাজার শিশু থাকবে। পুরো শহরে থাকবে দশ হাজার শিশু। ইতিমধ্যে আমাদের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আমরা জমি কিনেছি। একটি পল্লী শুরুও করেছি। অবশ্য দশটি পল্লী করা আমাদের জন্য সত্যিই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। দেশের মানুষ যদি দরদি মন নিয়ে এগিয়ে আসে, আমাদের পাশে দাঁড়ায় তবে এটা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে। অতীতের প্রতিটি প্রকল্পেই আমরা মানুষকে পাশে পেয়েছি। আমার মনে পড়ছে, ক্যানসার হাসপাতাল করার জন্য যখন আমরা ক্যাম্পেইন করছিলাম, তখন বিপুল পরিমাণ সাড়া পেয়েছি। দেশের বিত্তশালীরা লাখ থেকে শুরু করে কোটি টাকা পর্যন্ত দান করেছেন আমাদের। আর সাধারণ মানুষ তাঁদের সাধ্যমতো আমাদের ফান্ডে অর্থ দিয়েছেন। অনেক দিনমজুরই ২০ টাকা, ৫০ টাকা দিয়ে বলেছেন, আপনার এই মহান উদ্যোগে আমি আমার একদিনের উপার্জন দিয়ে দিলাম। গৃহিণীরা তাঁদের গয়না বেঁচেও আমাদের অর্থ দিয়েছেন, অনেক স্কুলপড়ুয়া শিশুও তাদের টিফিনের টাকা জমিয়ে সেই টাকা দান করেছে। অনেক গৃহিণীই ৫ শ টাকা, ১ শ টাকা নিয়ে এসে বলেছেন, বাজার খরচ থেকে বাঁচিয়ে এ টাকাটা হাসপাতালের জন্য এনেছি। অনেকে আবার পুরো মাসের বেতন দিয়ে দিয়েছেন ক্যানসার হাসপাতালের জন্য। এভাবে আমাদের প্রতিটি প্রকল্পেই জনমানুষ অকাতরে দান করেছে। তাদের সহাযোগিতা, সহমর্মিতায় আর ভালোবাসায় আজ আহ্ছানিয়া মিশন সিক্ত।
 
কেউ যদি জানতে চায়, আহ্ছানিয়া মিশনের অর্জন কী? আমি কোনো পদক বা পুরস্কারের কথা বলব না। আমি একবাক্যে বলব—মানুষের মুখের হাসি। এখানের প্রত্যেকটি সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিয়ে যখন মানুষের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, তখন এক অন্যরকম স্বর্গীয় আনন্দে মন নেচে ওঠে। মনে হয় পৃথিবীর সব পদক, সব পুরস্কার ওই হাসির কাছে তুচ্ছ। তাই আমি দৃঢ়তার সঙ্গেই বলব, এই দীর্ঘ সময়ে আহ্ছানিয়া মিশন মানুষের ভালোবাসা এবং মুখের হাসির চেয়ে দামি আর কিছু অর্জন করেনি।
 
অনেকেই আমাকে বলেন, তুমি চাইলেই বাইরের কোনো দেশে সেটেল হতে পারতে। তখন আমি বলি, বাইরের দেশে সেটেল হলে আমি সম্পদশালী কিংবা সুখী হতে পারতাম ঠিক, কিন্তু আমার প্রিয় মাতৃভূমির এ কোটি কোটি মানুষের কী হতো? খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার সংস্পর্শে এসে আমি এটাই বুঝতে পেরেছি, স্বার্থপরের মতো নিজের ভালো দেখা, নিজের ভালো বোঝা সত্যিকার কোনো মানুষের কাম্য হতে পারে না। মানুষের জন্মই হয়েছে পরের তরে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। আর আমাকে সে সুযোগ করে দিয়েছে আহ্ছানিয়া মিশন। তাই আমি আহ্ছানিয়া মিশনের কাছে কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞ দেশের মানুষের কাছেও।
 
দেশে-বিদেশে আহ্ছানিয়া মিশন গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ এসক্যাপ-এর হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (১৯৯৪), ইউনেস্কোর এশিয়া প্যাসিফিক কালচারাল সেন্টার-জাপান (The Asia-Pacific Cultural Centre for UNESCO, ACCU) গ্রান্ড প্রাইজ (১৯৯৬), ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা অ্যাওয়ার্ড (২০০৩), গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক অ্যাওয়ার্ড (২০০৩) এবং আরব গল্ফ ফান্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ (২০০৪) লাভ করে। জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের সরকার কর্তৃক স্বাধীনতা পদক (২০০২) এবং ড. মুহম্মদ ইব্রাহিম স্মৃতি স্বর্ণপদক (২০০৬) অর্জন করে। এ ছাড়াও অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর