পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নুরুল আলম জামিয়া রহমানিয়া কওমি মাদ্রাসার এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে ক্বারী মো. শহিদুল ইসলাম (৪৮) নামের এক শিক্ষককে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রের বাবার দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে রবিবার রাতে স্থানীয় অভিভাবকদের সহায়তায় মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। তিনি নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার গোড়গ্রাম মাছপাড়া এলাকার নছিমদ্দিনের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকায় নুরুল আলম জামিয়া রহমানিয়া কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ক্বারী মো. শহিদুল ইসলাম (৪৮) দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রদের যৌন হয়রানি করে আসছেন। তিনি গত ১৫ নভেম্বর ওই ছাত্রকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার করেন। এছাড়া মাদ্রাসার ৪/৫জন ছাত্র বিভিন্ন সময় একইভাবে ওই শিক্ষকের বলৎকারের শিকার হয়। কিন্তু ভয়ভীতি দেখানোয় কেউ তা প্রকাশ করতে পারেনি। নির্যাতনের শিকার ছাত্রের বাবা শনিবার মাদ্রাসায় যান। ওই ছাত্র তার বাবাকে বিষয়টি খুলে বলে এবং কান্নাকাটি করে। এরপর তিনি তার ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় রবিবার মাদ্রাসার ছাত্র, অভিভাবক ও স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে রাতে তাকে আটক করে।
জানা যায়, নির্যাতিত ওই ছাত্র নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার খানকা শরীফ এলাকার মুনছুরপাড়া থেকে ঘটনার মাত্র দেড় মাস আগে ভাউলাগঞ্জ নুরুল আলম জামিয়া রহমানিয়া কওমি মাদ্রাসায় হাফেজি পড়তে আসে। শহিদুল ইসলামকে আসামি করে সোমবার সকালে মামলা করেন ওই নির্যাতিত ছাত্রের বাবা।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি