মুক্তিযুদ্ধের ৪৬ বছর পরেও গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর মৌজায় ১৩৫ শহীদের স্মৃতি বিজড়িত মরার ভিটায় নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ।
যুদ্ধের সময় পাক সেনারা একই দিন একই স্থানে বিভিন্ন বয়সের ১৩৫ জন নিরীহ নারী-পুরুষকে গুলি করে হত্যা করেছিল বলেই গৌরনদী উপজেলার একটি বধ্যভূমির নামকরণ করা হয়েছে মরার ভিটা। উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর মৌজার নন্দী পাড়ার সেই দুর্গম ও নির্জন জঙ্গলটি আজও সেই ভয়াল দিনের স্মৃতি বহন করে চলছে। এখনও ওই স্থানের মাটি খুড়লে শহীদদের মাথার খুলি, কংকাল ও হাড়গোড় পাওয়া যায়। আজও সেখানে থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, পাক সেনাদের ভয়ে ’৭১ সালের ১৫ মে হরহর মৌজার নন্দি পাড়ার বনজঙ্গল বেষ্টিত জলাভূমিতে আশ্রয় নিয়েছিল আশপাশ এলাকার কয়েকশ হিন্দু পরিবারের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশুরা। কিন্তু বিষয়টি জানতে পারে পাক বাহিনীর দোসর ও স্থানীয় বাটাজোর ক্যাম্পের রাজাকাররা। তারা পাক হানাদারদের নিয়ে সেদিন ওই স্থানে হানা দেয়। হানাদাররা সেদিন নিরীহ জনতার ওপর ব্রাশ ফায়ার করে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ মাসের শিশু থেকে ৮৫ বছরের বৃদ্ধ ছিল এবং অধিকাংশই ছিল নারী ও শিশু।
কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এ হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার আদম আলী মাষ্টার, তার সহযোগী মানিক রাঢ়িসহ কয়েকজন যুদ্ধাপরাধী প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকলেও তাদের এখনও বিচারের আওতায় আনা হয়নি। এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারের স্বজনরা দ্রুত ওই যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার ও একই সঙ্গে শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় মরার ভিটায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/নূহু