দৌলতদিয়ায় যৌন উত্তেজক ওষুধের রমরমা ব্যবসা

 
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী যৌন উত্তেজক ওষুধের রমরমা ব্যবসা চলছে ওই এলাকায়। মানহীন-নামহীন এ সব ওষুধ সেবন করে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনা। এ ধরনের ওষুধ সেবন করে নভেম্বর মাসে দুই জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের সর্ববৃহৎ যৌনপল্লী দৌলতদিয়া ঘাটে। এই যৌনপল্লীকে কেন্দ্র করে পল্লীর ভেতর ও আশপাশের এলাকায় অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট। গোপনে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব ট্যাবলেট এনে এখানে সরবরাহ করছে একটি চক্র। যৌনপল্লী সংলগ্ন বিভিন্ন ওষুধের দোকানসহ হকারদের মাধ্যমে পল্লীতে ঘুরে ঘুরেও এসকল যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট বিক্রি করা হয়। এছাড়া পান-বিড়ির দোকানেও পাওয়া যায় এসব প্রাণঘাতী ওষুধ। এ সকল ওষুধের নেই কোন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ। কোন কোন ট্যাবলেটে গায়ে ওই ওষুধের নামটি পর্যন্ত নেই। অথচ পল্লীতে আগতরা অহরহ এসকল ওষুধ সেবন করছে। এতে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোন বিভাগকে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
 
চিকিৎসকদের মতে, এসব ট্যাবলেট সেবনের ফলে রক্তচাপ অনেক বেড়ে যায়। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অত্যন্ত ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনির মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন সেবনে দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়। এতে লিভার ও নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। অনুমোদিত যেসব যৌন উত্তেজক ওষুধ আছে, সেগুলো সেবনের আগে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সেবনের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু এসব নিষিদ্ধ ট্যাবলেট সেবনের ফলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষের স্বাস্থ্য। অনেক ক্ষেত্রে এসব ওষুধ সেবনের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে।
 
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আজিজুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, যত্রতত্র এ সকল ক্ষতিকর ওষুধ সেবনে মানুষের গুরুতর স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব ওষুধ প্রশাসনের। এ ক্ষেত্রে আমাদের মানুষকে সচেতন করা ছাড়া তেমন কোন ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই।
 
ইত্তেফাক/জামান