মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে জেলা হকার্স সমিতি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌসের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সমিতির সদস্যরা। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের অব্যবহূত জায়গায় পলিথিন টাঙিয়ে এবং কেউ টং ঘর তুলে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন ছিন্নমূল হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে চা পান, বিড়ি-সিগারেট, পুরি-সিংগাড়া, হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভাত-রুটি বিক্রি করে আবার কেউ সিদ্ধ ডিম-ছোলা, চানাচুর, ঝালমুড়ি, পুরাতন কাপড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
গত ২৯ মার্চ অভিযান চালিয়ে তিন শতাধিক হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে সওজ কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদের ফলে উপার্জনের অবলম্বন হারিয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ শতাধিক ব্যবসায়ী তাদের পুনর্বাসনের দাবি করেছেন। অন্যথায় স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা, ভাইবোন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া ছাড়া তাদের কোনো উপায় থাকবে না।
মানিকগঞ্জ পৌরসভাধীন এলাকায় সরকারি পরিত্যক্ত ও অব্যবহূত বিস্তীর্ণ জমি রয়েছে। এসব জমিতে সরকারি তত্ত্বাবধানে মার্কেট নির্মাণ করে তাদেরকে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে একদিকে তাদের উপার্জনের ব্যবস্থা হবে, পাশাপাশি সরকার রাজস্ব পাবে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, উচ্ছেদের ফলে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বনটুকু হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। সমিতির সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, উচ্ছেদের কারণে মানবিক বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে হকাররা। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা না হলে তাদেরকে পরিবার নিয়ে অনাহারে ও অর্ধাহারে থাকতে হবে।