মা-বাবার জীর্ণ কুটিরে আঁখি, গ্রামবাসীর ফুলেল শুভেচ্ছা

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় গোল্ডেন বুট জয়ী আঁখি আকতার গতকাল মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের পাড়কোলা গ্রামে নিজেদের জীর্ণ কুটিরে ফিরেছেন। এ সময় হতদরিদ্র তাঁত শ্রমিক পিতা আকতার হোসেন ও মা নাছিমা বেগম তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে পরম স্নেহের সাথে বরণ করে নেন। এর আগে গ্রামবাসী, সহপাঠী, পাড়কোলা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। পাড়কোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় তিনি গ্রামবাসীর সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তাকে একনজর দেখার জন্য সেখানে উত্সুক মানুষের ভিড় জমে যায়।

আবেগজড়িত কণ্ঠে আঁখি বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। সেরা খেলোয়াড় হওয়ায় আমি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ, গ্রামবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমার জন্য আপনারা আরো দোয়া করবেন আমি যেন আরো ভালো খেলতে পারি, আরো সুনাম অর্জন করতে পারি।’ তিনি জানান, একদিন বাড়িতে বিশ্রাম শেষে এলাকার ফুটবল খেলায় আগ্রহী মেয়েদের অনুশীলন করাবেন।

আঁখির বাবা আকতার হোসেন জানান, আঁখি আমার ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো। এ উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় ফুটবল তারকাকে ধরে রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

আঁখির মা নাছিমা বেগম বলেন, মেয়েকে কোনো দিন দুই বেলা পেট ভরে ভালো করে ভাতও খেতে দিতে পারিনি। ভাঙা ঘরে বৃষ্টি এলে পানি পড়ে, শীতে হু হু করে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে। ভালো একটি লেপ-কম্বলও তাদের নেই। তাই মেয়েকে একটু ভালো বিছানায় শুতে দেওয়ার সামর্থ্যও তাদের নেই।

এদিকে আঁখিকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার সংগঠন পূরবী থিয়েটার, শিশু সংগঠন ভোর হলো’র পক্ষ থেকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, আঁখি ফুটবল ছাড়াও এ্যাথলেটিক্সে খুব ভালো। লং জাম্প ও হাই জাম্পে একাধিকবার জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। লেখাপড়ায়ও খুব ভালো। গত জেএসসি পরীক্ষায় ৪.৬৩ পেয়ে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু