বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনা গ্রামের হিন্দুপাড়ায় মিনু রাণী দেব (৪০) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা ও তার স্বামী জ্যোতিষময় দেবকে (৫০) আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
লবণ মাঠ ও পুকুর বর্গা না দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় কামাল উদ্দিন ভেট্টা নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। জ্যোতিষময় দেব বাদী হয়ে বুধবার কামালসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
গণ্ডামারা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা বলেন, মুসলিম অধ্যূষিত গণ্ডামারার পূর্ব বড়ঘোনায় মাত্র ৯টি ঘর নিয়ে হিন্দুপাড়াটি অবস্থান। প্রত্যেকে জমিদার শ্রেণির পরিবার। রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে খুন ও আহত করার ঘটনা দুঃখজনক।
জ্যোতিষময় দেব বলেন, স্থানীয় কামাল উদ্দিন ভেট্টা আমার ৩ কানি লবণমাঠ ও পাড়ার পুকুরটি বর্গা নিতে চেষ্টা করে। অধিক টাকা পাওয়ায় আমি অন্যজনের কাছে লবণমাঠ ও পুকুর লাগিয়ত করি। এ ঘটনার পর থেকে কামাল উদ্দিন আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার রাত দেড়টা দিকে আমরা ঘুমিয়ে পড়লে কামাল উদ্দিন আরো কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের ঘরের সামনে এসে “চোর চোর, পুকুরের মাছ নিয়ে যাচ্ছে বলে চিৎকার করতে থাকে।” এ চিৎকার শুনে ঘরের দরজা খুলে বাহিরে গেলে কামাল আমাকে দা দিয়ে কোপাতে থাকে। ঘটনাস্থলে আমার স্ত্রী মিনু এসে পড়ে। সন্ত্রাসীরা তাকে দেখার সাথে সাথে তার বুক ও পেটে ছুরি মারে। ওই সময় আমার আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ততক্ষণে আমার স্ত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, লবণমাঠ সংক্রান্ত ঘটনায় মিনু রাণী দেব খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় কামাল উদ্দিন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি