বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ২০১৭। আসছে নতুন বছর ২০১৮।
খুন, ধর্ষণ, আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিদ্যমান গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনার মতো বেশ কিছু ঘটনায় ২০১৭ সালের হাটহাজারী ছিল বেশ আলোচিত ও সমালোচিত। এসব ঘটনার মধ্যে অতীতের যে কোন বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশী আত্মহত্যা ও সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়েছে।
অনুসন্ধান ও পুলিশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালে এ পর্যন্ত হাটহাজারীতে খুন হয়েছেন ৪ জন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭টি, ৪৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অন্তত ৩৬ জন, আত্মহত্যা ৩৫, অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে ৭০ টি।
এছাড়া থানায় ২১১টি মাদক মামলায় আটক ৬১৯ আসামী আটক, উদ্ধার হয়েছে ৪৪১৯টি ইয়াবা, ১০কেজি গাঁজা, ৪৩২৮ লিটার চোলাই মদ, ৯টি অস্ত্র মামলায় আটক করা হয়েছে ৯জন, উদ্ধার হয়েছে ২টি বিদেশী পিস্তল, ১টি রাইফেল, ২টি এলজি, ৩টি ওয়ান শুটার গান, ১টি পাইপ গান, ৭টি কার্তুজ, ৭২টি গুলি এছাড়া ডাকাতি মামলা রুজু হয়েছে ১টি।
হাটহাজারীতে অতীতের যে কোন বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পায়। উপজেলাধীন হাটহাজারী-অক্সিজেন, হাটহাজারী-নাজিরহাট ও হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে ৪৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৩৬জন। গুরুতর আহত হয়েছে ৪২ জন।
অনুরূপভাবে উপজেলায় আশংকাজনক হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। ২০১৭ সালে আত্মহত্যার সংখ্যা অতীতের যে কোন বছরের তুলনায় বেশি ছিল। এ বছর অন্তত ৩৫টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে যেখানে ২০১৬ সালে ১৮টি ও ২০১৫ সালে ১২টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে কেউ বিষপানে অথবা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ২০১৭ সালে ৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও সবচেয়ে ঘৃণ্য ও ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ছিলো আমানবাজার এলাকায় পাষণ্ড পিতা কর্তৃক আপন কন্যাকে ধর্ষণ। এ ঘটনায় ধর্ষক পিতাকে আটক করা হয়। এছাড়া বাকি ৬টি ঘটনার প্রত্যেকটিতে অভিযুক্ত ধর্ষককে আটক করা হয়।
গত ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্যমান গ্রুপগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে হাটহাজারী সদর ও ফতেপুর ইউনিয়নে কয়েকটি ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ ও গাড়ী ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অতীতে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি নিক্ষেপের কোন ঘটনা না ঘটলেও এ ইস্যুতে হাটহাজারীতে প্রায় ৫০ রাউন্ডের অধিক ফাঁকা গুলি নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়া গ্রুপগুলো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা রুজু ও পুলিশের কঠোর অবস্থানে যাওয়ার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কিছুটা ফিরে আসে।
উপজেলায় যে ৪টি খুনের ঘটনার মধ্যে বেশ আলোচিত ছিল আওয়ামী লীগ নেতা ও ফতেপুর ইউপির সদস্য লোকমানকে তার বাড়ীর সামনের ছুরিকাঘাতে খুন করার ঘটনা। ঘটনার প্রতিবাদ ও খুনীদের আটকের দাবিতে হাটহাজারী-অক্সিজেন মহাসড়কে একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ হয়েছিলো।
এ বছর উপজেলায় ৭০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তার মধ্যে ৪৮টি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ নির্বাপণ করে। এর মধ্যে হাটহাজারী থানা সংলগ্ন মুরগীর হাট ও উপজেলার বড়দিঘী পাড় এলাকায় সবচেয়ে বড় দুটি অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত হয়। উভয় ঘটনায় পুড়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্টানের মালিকরা অন্তত ১৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হন।
হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর ইত্তেফাককে বলেন, হাটহাজারীতে যোগদানের পর অতিতের তুলনায় আইন শৃঙ্খলা ভাল রাখার চেষ্টা করেছি। নতুন বছরে আইন শৃঙ্খলা আরো ভাল রাখার চেষ্টা করবো।
ইত্তেফাক/নূহু