চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর নয়াপাড়া এলাকার আবদুল গফুরের পেশা ছিল দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করা। এক-দু' টাকার জন্য হাত বের করতেন মানুষের কাছে। বিগত প্রায় ৫/৬ বছর ধরে তিনি ভিক্ষা করে জীবন চালাতেন। ৫০ বছর বয়সী এ ভিক্ষুক এখন আর ভিক্ষা করেন না। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুপ্রেরণায় তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়েছেন। ইউএনও তাকে তরি-তরকারি ও ডিজিটাল বাটহারা সমেত একটি ভ্যান গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। তার ইচ্ছানুযায়ী এটি দেয়া হয়। ফেরি করে প্রতিদিন এলাকায়-এলাকায় তরি-তরকারি বিক্রি করছেন।
এলাকার ইউপি সদস্য জানান, আবদুল গফুর ফেরি করে এলাকায়-এলাকায় সবজি করছেন। তার সাথে দেখা মিললে তিনি আমাকে উল্টো চায়ের দাওয়াত দেন। দিনবদলের সংগ্রামে রয়েছেন গফুর।
আবদুল গফুর জানান, ইউএনও অনুপ্রেরণায় তিনি ভিক্ষা ছেড়ে দিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ফেরি করে তরি-তরকারি বিক্রি করে তিনি লাভবান হচ্ছেন। দৈনিক তিনি ৫শ'-৬শ' টাকা আয় করছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসা করে তিনি আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন। লাভের টাকায় তিনি একটি গরুর বাছুরও কিনেছেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব আলম জানান, আবদুল গফুর কিংবা আমিনুল হক নয়, উপজেলার অন্যান্য ভিক্ষুকরাও ভিক্ষা ছেড়ে দিনবদলের সংগ্রাম শুরু করে দিয়েছেন। ভিক্ষুকরা ক্ষুদ্র ব্যবসায় লাভবান হচ্ছেন। ভিক্ষাবৃত্তির অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে স্বল্প পুঁজিতে এসব ভিক্ষুকের অলসের হাত কর্মীর হাতে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/জামান