১৩ স্থানে হত্যার শিকার ১৬৬ জন
গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
১৩ এপ্রিল ১৯৭১। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে রাউজানের শোকাবহ একটি দিন। পাকিস্তানি দোসরদের সহযোগিতায় হানাদার বাহিনীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে উপজেলার তেরটি স্থানে সকাল সাতটা থেকে শুরু করে নির্মম ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। রাউজানের ইতিহাসের সেই নারকীয় গণহত্যায় ১৫৬ জন হিন্দু ও ১০ জন মুসলমানকে হত্যা করা হয়। পাহাড়তলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ঊনসত্তরপাড়া বধ্যভূমি স্থলে এবং শহীদ অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে কুণ্ডেশ্বরীতে দিবসটি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার হানাদার বাহিনী তাদের দোসরদের সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু জাফর চৌধুরী জানান, রাউজানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৩ এপ্রিল দিনটি ছিল এক ভয়ঙ্কর দিন। এ দিন হত্যার এমন নির্মমতা ছিল যে, অনেক পরিবারের মধ্যে কেউই বেঁচে নেই। এবার এসব শহীদদের স্মরণে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে আলোচনা সভার অয়োজন করব।
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান জনান, ১৩ এপ্রিল গণহত্যা দিবস পালনে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যৌথভাবে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। পাহাড়তলী ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে ঊনসত্তরপাড়া শহীদ বেদীতে সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বালন, পুষ্পঞ্জালি অর্পণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করব।
দিবসটি পালনে বিশেষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন এবং উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা ইত্তেফাককে বলেন, উপজেলা প্রশাসন হতে এই দিবস নিয়ে কোনো কর্মসূচি নেই। কোনো সরকারি নির্দেশনাও পাইনি।
বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী ও রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী পলাশ মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, দিবসটি মহান মুক্তিযোদ্ধে শহীদদের ত্যাগ তিতিক্ষার কথা আলোচনা সভার মাধ্যমে তুলে ধরতে পারলে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযোদ্ধের চেতনা ও জাতীয় মূল্যবোধ জাগ্রত হবে।