চকরিয়ায় শতাধিক বাগানে চাষ হচ্ছে ফুল
এম. এইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
নতুন বছরকে বরণ করতে বেড়েছে ফুলের চাহিদা। বর্ষবরণকে ঘিরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফুলের গ্রাম খ্যাত বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের চাষিরা কয়েকদিন ধরে ফুল বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। রবিবার বিকাল পর্যন্ত দুইটি ইউনিয়নের শতাধিক বাগান থেকে অন্তত কোটি টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল কিনে নিতে বাগান মালিকদের কাছে আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছেন।
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ও হারবাংয়ের বাগান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদাসহ নানা জাতের ফুল। হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুইদশক আগে কয়েকজন চাষি মিলে প্রথমে বরইতলী ইউনিয়নের অল্প জমিতে শুরু করেন ফুলের চাষ। কমখরচে ফুল চাষে বেশি লাভে সফলতা দেখায় সেই থেকে ব্যাপক জমিতে চাষ শুরু করেন একাধিক চাষি। তাদের দেখাদেখি বর্তমানে হারবাং ইউনিয়নেও বিস্তৃতিলাভ করেছে ফুলের চাষ।
ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, পরিচর্যা থেকে ফুল বাগানের সবধরনের কাজে নিয়োজিত আছেন পাঁচ শতাধিক নারীপুরুষ শ্রমিক।
চকরিয়া ফুল ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক ও বরইতলী একতা বাজার এলাকার ফুলচাষি মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘এক সময় বরইতলী ইউনিয়নে অনেক কৃষক পরিবেশ বিধ্বংসী তামাক চাষ করতেন। কয়েকবছর ধরে বেশিরভাগ চাষি নীলচাষ ছেড়ে ফুল চাষে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি বাগান থেকে নিত্যদিন খুব ভোরে ফুল কাটা হয়। এগুলো প্যাকেট ভর্তি করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাইকারদের কাছে পাঠানো হয়।
স্থানীয় ফুল চাষিরা জানান, প্রতিটি গোলাপ ফুলের দাম মানভেদে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ টাকায়। আর বিভিন্ন রংয়ের গ্লাডিওলাস ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। নিয়মিত মজুরি পাওয়ায় চাষির পাশাপাশি বাগান পরিচর্যা ও ফুল কাটায় নিয়োজিত শ্রমিকদের মুখেও হাসি ফুটেছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ বলেন, উপজেলার বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নে শতাধিক ফুলের বাগান রয়েছে। দুই দশক আগে থেকে এখানকার চাষিরা ফুল চাষ করে আসছেন। প্রথমদিকে অল্প জমিতে ফুলের চাষ হলেও বর্তমানে চাষের পরিমাণ বেড়েছে। ভালো দাম পেয়ে এখন আর্থিকভাবেও বেশ লাভবান হচ্ছেন ফুল চাষিরা।