হালদায় মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে

দেশের একমাত্র রুই-কাতল জাতীয় (কার্প ফিশ) মাছের প্রাকৃতিক প্রজননস্থল চট্টগ্রামের হালদা নদীর মাছ ও জলজ প্রাণী অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। রাবার ড্যামের মাধ্যমে হালদার প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বন্ধের তত্পরতা এখনো প্রত্যাহার হয়নি। ফলে শীত মৌসুমে যান্ত্রিক নৌকা এবং ড্রেজারের মাধ্যমে স্বল্প পানির তলদেশ থেকে বালি উত্তোলনের ব্যাপক তত্পরতা এবং স্থানীয় বেশ কিছু প্রভাবশালী মহলের নদীর পরিবেশ বিরোধী তত্পরতায় হালদার মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।

গত সপ্তাহেই মাত্র একদিনের ব্যবধানে ৩ এবং ৪ জানুয়ারি হাটহাজারি উপজেলায় হালদার সংযোগ প্রবাহ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুইটি মৃত শুশুক। এই দুইটি শুশুকের একটিকে সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি উদ্ধার করা হয় হাটহাজারি উপজেলার গড়দুয়ারা গচ্ছাখালি এলাকার একটি সংযোগ খালের কালভার্টের নীচ থেকে। উদ্ধারকৃত শুশুক দুইটিই দৈর্ঘ্যে প্রায় ৭ ফুট। ওজন প্রায় ৩/৪ মণ।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এক সময়ের নিরাপদ নদী, মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রাকৃতিক প্রজননস্থল হালদায় এভাবে শুশুকের মৃৃত্যু আগে কখনো দেখা যায়নি। তারা আরো জানান, গত প্রায় ৩/৪ মাসে হালদায় সর্বশেষ দুইটি ছাড়াও আরো ১৫টি শুশুকের মৃতদেহ নানা স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত এক দশকে মানবসৃষ্ট নানা অপতত্পরতার কারণে হালদার প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে গত কয়েক বছর এই মূল্যবান নদীটিতে কার্পজাতীয় মা মাছ সময় মতো ডিম ছাড়েনি। মা মাছেরা গত বছর ডিম ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের আগে এবং পরে।

জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয় পরিচালিত হাটহাজারি-ফটিকছড়ির ভুজপুর এলাকার রাবার ড্যামটি বানানো হয়েছে হালদা নদীর মেইন স্ট্রিম বা মূল নদীর পানি প্রবাহের উপর। অন্যদিকে দ্বিতীয় রাবার ড্যামটি স্থাপিত হয়েছে হারুয়ারছড়িতে হালদার একটি   গুরুত্বপূর্ণ শাখা খালের উপর। এছাড়াও এই শীতে অন্যান্য শাখা খালের পনি স্লুইচ গেইটের কারণে আটকা থাকায় পানি প্রবাহ বিঘ্নিত এবং শীতে স্বল্প পানিতে মা মাছ ও শুশুকদের বিচরণ এলাকা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এখানকার রাবার ড্যাম দুইটি প্রত্যাহারের জন্য এবিষয়ে গঠিত কমিটির বৈঠকের এজেন্ডা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চূড়ান্ত হয়ে আছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মুখ্যসচিব। সম্প্রতি মুখ্যসচিব পরিবর্তন হওয়ায় এ সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠান কিঞ্চিত্ বিলম্বিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, চবি হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক এবং হালদা রক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, হালদার মাছ ও জলজ প্রাণী রক্ষায় দুইটি ড্যাম অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং শাখা খালগুলোর স্লুইচ গেইটসমূহ খুলে দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, হালদা এবং এই নদীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাছ ও জলজ প্রাণিকূল রক্ষায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল যতো দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন ততই মঙ্গল।

ইত্তেফাক/নূহু