স্পর্শের অনুভূতি সম্পন্ন কৃত্রিম হাত উদ্ভাবন

রোমের একদল বিজ্ঞানী স্পর্শ অনুভূতিসম্পন্ন এমন একটি হাত উদ্ভাবন করেছেন যেটি স্বাভাবিক হাতের মতোই বাইরে পরে ঘুঁরে বেড়ানো সম্ভব। উদ্ভাবন করা হাতটি বর্তমানে ব্যবহার করছেন আলমেরিনা মাসকারেলো নামের এক নারী। ২৫ বছর আগে নিজের হাত হারিয়েছেন আলমেরিনা। নতুন হাতটি পাওয়ার পর তার মনে হচ্ছে, তিনি তার হারানো হাতটিকেই আবার ফিরে পেয়েছেন।

এর আগে ২০১৪ সালে এই দলটিই উদ্ভাবন করেছিল স্পর্শ অনুভূতিসম্পন্ন হাত। তবে তা শুধু ল্যাবরেটরিতেই কাজ করতে সক্ষম ছিল। সেন্সর আদান প্রদানে ব্যবহূত যন্ত্রপাতি এবং কম্পিউটার সব কিছুই ছিল অনেক বড় বড় যা ল্যাবরেটরির বাইরে বহন করাটা একপ্রকার অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন ছোট ছোট সেন্সর ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম হাতটি।

কৃত্রিম হাত উন্নয়ন দলে কাজ করেছেন ইটালি, সুইজারল্যান্ড এবং জার্মানির প্রকৌশলী, নিউরো সাইন্টিস্ট, সার্জন, ইলেকট্রনিকস   অ্যান্ড রোবোটিক স্পেশালিস্ট। কৃত্রিম এই হাতটি কোন বস্তুকে স্পর্শ করে প্রথমে বস্তুটি শক্ত নাকি নরম সেই তথ্য নেয়। এরপর সেই তথ্য চলে যায় হাতে লাগানো বিশেষ ধরনের কম্পিউটারের কাছে। ঐ কম্পিউটার সেই তথ্যকে ব্রেনের ভাষায় পরিবর্তন করে মস্তিষ্কে পাঠানো হয়। চোখ বেঁধে অনেক জিনিস স্পর্শ করিয়ে আলমেরিনার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এটি কী শক্ত নাকি নরম। সব প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হন আলমেরিনা। তিনি বলেন, স্পর্শের অনুভূতিটা একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ত। একেবারেই সত্যিকারের হাতের মতো। হাত হারানোর পর অনেক কিছুই করতে পারতাম না। এখন আশা করি আগের মতো সব কাজ করতে পারবো।

গবেষক দলে কাজ করা বিজ্ঞানীরা এটিকে দারুণ সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এদের একজন বলেন, এর মধ্য দিয়ে নিউরো প্রোসথেটিক যুগের দিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলাম আমরা। কারণ মেশিন এবং মানুষের শরীরের মধ্যে ভাষার আদান-প্রদান করতে সক্ষম হয়েছি। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে কল্পকাহিনীকে হার মানাতে পারবো। বিজ্ঞানীদের আশা, তারা যদি এভাবে কাজ চালিয়ে যান তাহলে হয়তো একদিন পুরোপুরি সত্যিকারের হাতের মতোই হাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হবেন।-বিবিসি

ইত্তেফাক/নূহু