ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী গ্রামের ৩ ভূমিহীন পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছে। আতঙ্কগ্রস্ত পরিবার প্রধানরা হচ্ছে আব্দুল হাই, আব্দুল আওয়াল ও নজরুল ইসলাম।
ভূমিহীন পরিবার প্রধান আব্দুল হাই জানান, ১৯৮৮ সালে সরকার উজেলার ডেফলাই ঝিনুকগুচ্ছ গ্রাম স্থাপন করে তাদের ২০ ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করেন। তাদের জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ১৯৯০ সালে গজনী মৌজায় ২৫ একর জমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেন। জেলা প্রশাসকের অনুমতিসাপেক্ষে ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য লোকের সহায়তায় ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা ওই জমিতে ফলদ বাগান ও একটি খামার বাড়ি গড়ে তোলেন। ওই জমির মালিকানা নিয়ে বন-বিভাগ ও ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে চলছিল মামলা-মোকদ্দমা।
গত ১৫ নভেম্বর রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল মামুনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি দল ভূমিহীনদের খামার বাড়ি ও ফলদ বাগান গুঁড়িয়ে দেয়। এ ব্যাপারে ভূমিহীন পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তা চলমান রয়েছে। এছাড়া ওই জমির বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন মামলা করা হয়। ওই রিট মামলার আলোকে বিচারপতি ভূমিহীনদের উক্ত জমির উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে স্ট্যাটাসকো জারি করেন। আব্দুল হাই জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে গজনী বিট কর্মকর্তা আব্দুর রফিক ২৫/৩০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে ৩ ভূমিহীনের বসতঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। এবং ঘরের মালামালের ক্ষতি সাধন করে।
এ সময় ভূমিহীন পরিবারের সদস্য আব্দুল আওয়ালসহ ২ জনকে ধরে নিয়ে মারপিটও করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা উচ্ছেদ আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিট কর্মকর্তা আব্দুর রফিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বন বিভাগের জমির উপর অবৈধ স্থাপনা তাই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু