পঙ্গুত্বের কাছে হার মানেননি শারীরিক প্রতিবন্ধী জসীম (২৩)। জন্মগতভাবে তার দুটি হাত না থাকলেও বাঁচার তাগিদে শরীরের অন্য অঙ্গগুলোকে কাজে লাগিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন দৈনন্দিন সকল কাজকর্ম। জসীম ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের ব্যাপারী ডাঙ্গী এলাকার শেখ বকুরের ছেলে।
গতকাল শনিবার সরজমিনে জসীমের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়- তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজ। বড় ভাই শেখ মহসিন ঢাকার একটি হোটেলে কাজ করেন। আর ছোট ভাই ইমারত হাজীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেণির ছাত্র ছিল। তবে সে অভাবের কারণে লেখা-পড়া বন্ধ করে এখন বড় ভাইয়ের কাছে ঢাকায় কাজ শিখছে। জসীমের বাবা অন্যের ট্রলার ভাড়া চালিয়ে ছেলে সন্তানের মুখে দু'বেলা-দু'মুঠো খাবার তুলে দিতেন। কিন্তু প্রায় এক বছর হলো মহাজন ট্রলার বিক্রি করে দেওয়ায় কাজ হারিয়ে তিনি বাড়িতে বেকার বসে আছেন।
জসীমের মা স্বরূপজান চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলেন, "জসীম আমার নাড়ি ছেড়া ধন' অভাবের সংসারে জসীম পঙ্গু হয়ে জন্মেছে। এখন সে বড় হয়েছে তাই চার বছর আগে ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি সেই ঘরে ৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে বর্তমানে জসীমের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা।" তিনি আরও বলেন, 'নুন আনতে পানতা ফুরানোর মতন একটি অভাবী সংসার আমাদের। জন্মগতভাবে দুটি হাত না থাকলেও নিজের অদম্য সাহস মেধা ও বুদ্ধি দিয়ে মুখ দিয়ে কোরআন পড়ার পাশাপাশি পা দিয়ে টিউবওয়েল থেকে পানিও ওঠাতে পারে।' তিনি জানান, বাঁচার তাগিতে ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে চানাচুর, বিস্কিট, লজেন্স, চিপসসহ বিভিন্ন মুদি পণ্য পায়ের সাহায্যে বিক্রি করে থাকে জসীম।
IMG0
ওইদিন বিকেলে জসীমের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, পায়ের সাহায্যে নানা পণ্য বিক্রি করার পাশাপাশি মোবাইল চালাচ্ছেন তিনি। এতে তার সংসার ভালো চলে না বলে জানান তিনি। জসীম জানান- পাঁচ শ' টাকার প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া আর কোন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না তিনি। সরকারি সাহায্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী বলেন, 'জসীমের স্ত্রী নাজমার নামে দুই বছর মেয়াদী ভিজিডি কার্ড করে দেওয়া হয়েছে।' চাহিদার তুলনায় সরকারি সাহায্য অপ্রতুল থাকায় পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদে অন্য কোন সাহায্য আসলে জসীমকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
ইত্তেফাক/জামান