বর্তমানে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয়ের বিষয়টি নিয়ে ভাবা বাস্তব সম্মত নয় বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও কোন গণতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক দেশে বা ১৯৩টি দেশের মধ্যে কোথাও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় নেই। তাই এ মুহূর্তে এটা ভাবা অবাস্তব। তবে হ্যাঁ ভবিষ্যতে এটা হবে কি হবে না সেটা বলা যাবে না।
রবিবার বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে অবস্থা বিদ্যমান আছে সেটাই বিচার বিভাগের জন্য শ্রেয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের কথা যেটা বলা হচ্ছে সেখানে আমি দুটো কথা বলতে চাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে এবং ৩ নভেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরে বাংলাদেশে একটা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেটা কিন্তু ২১ বছর বিদ্যমান ছিল। বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর এই হত্যার ব্যাপারে ২১ বছরে কিন্তু কোন মামলা হয় নাই। তখন কিন্তু কেউ সুয়োমেটো রুল বা পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (জনস্বার্থমূলক মামলা) করে নাই।
তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার অধিকার সংবিধান প্রত্যেকেই দিয়েছে। সেখানে সরকারকে কিন্তু বাদ দেয়নি। সেই অধিকার নিয়েই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করা হয়েছে। এখন আপিল বিভাগ যখন মনে করবেন তখন দিন ধার্য করলেই এর শুনানি হবে। সরকারও চায় এই বিতর্কের অবসান হোক, এই মামলা নিরসন হোক।
আইনমন্ত্রী বলেন, নিন্ম আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধি করার ব্যাপারে সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দেওয়া আছে ঠিক সেভাবেই এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার করেই এই বিধি করা হয়েছে। বিধিটি যখন আপিল বিভাগ গ্রহণ করেছেন, তখন তারা এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি তাঁর আদালতের যে মতামত তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন আছে। এ মামলার জট কমিয়ে আনা বিচার বিভাগ ও সরকারের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মামলা জট কমিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচারকদেরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। ন্যায় বিচারের দ্বার যেন সর্বস্তরের বিচারপ্রার্থীদের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকে এবং কেবল বিত্তবানদের জন্য যেন সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে বিচারকদের সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।
বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকও বক্তৃতা করেন।
ইত্তেফাক/এমআই