বানারীপাড়ায় এক ডিস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাট দখল করে বহুতল ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে শনিবার সকালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১৭টি সংগঠন শ্মশানঘাট রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিপুল চন্দ্র দাস, পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল ও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাজ্জাদ হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি দেবাশীষ দাস, শ্রী গুরু সংঘের কেন্দ্রীয় আশ্রমের প্রচার সম্পাদক ভক্ত কর্মকার, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জীবন কৃষ্ণ দাস, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা পান্না লাল কর্মকার, ব্যবসায়ী শম্ভু নাথ সাহা, পৌর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক রিপন বণিক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুমম রায় সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন দেবনাথ, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিত্ বড়াল, স্বর্ণকার বরুণ চন্দ্র দাস, অনিমেষ কর্মকার প্রমুখ।
জানা গেছে, পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডে জেএল ৪২নং মৌজায় ১৩ শতক সম্পত্তিতে থাকা শ্মশান ঘাটের একাংশ দখল করে বন্দর বাজারের শাওন ক্যাবল নেটওয়ার্কের স্বত্বাধীকারী মোজ্জাম্মেল হোসেন সম্প্রতি বহুতল ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন বার বার তাকে নিষেধ করার পরেও তিনি সেখানে স্থাপনা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখেন। ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শ্মশান রক্ষার দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগকারী সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ উপজেলা শাখা, বানারীপাড়া সনাতনী ছাত্র-যুব পরিষদ, শ্রী শ্রী রাধা মাধব নামহট্ট মন্দির ইসকন, বানারীপাড়া কেন্দ্রীয় সার্বজনীন মন্দির, বাজার হরিসভা মন্দির, রায়েরহাট সার্বজনিন শ্রী মাতা কালি মন্দির, শ্রী গুরু সংঘ, সত্ সংঘ, অবধূত সংঘ, শ্রী শ্রী মহানাম সংঘ, শ্রী শ্রী লোকনাথ মন্দির, শশ্মান বাস্তবায়ন কমিটি, বন্ধু মহল, ডেয়ার ডেভিলস, দাসেরবাড়ী শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির এবং ঠাকুর বাড়ি সার্বজনিন দুর্গা মন্দির।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন জানান, তিনি শ্মশানের সম্পত্তিতে নয় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ. সালাম ও নুরজাহান বেগমের কাছ থেকে সাড়ে ৯ শতক সম্পত্তি ক্রয় করে সেখানে ভবন ও প্রাচীর নির্মাণ করছেন। তিনি শ্মশানঘাটের সম্পত্তি ১৩ শতক নয় ২ শতক বলেও দাবি করেন।
ইত্তেফাক/নূহু