'অনাথ-পাগলদের খুঁজছি কম্বল দিতে'

 
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কী মানুষ পেতে পারে না- ভূপেন হাজারিকার বিখ্যাত গানে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের অসহায় পাগল ও অনাথদের জন্য নীরবে-নিভৃতে রাতের আঁধারে কাজ করে চলেছেন শফিক মণ্ডল নামের এক শিক্ষক।
 
 
কনকনে শীতে রাতের আঁধারে একটি শীত বস্ত্র দিতে প্রতিনিয়তই রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেওয়া পাগলদের সন্ধান পেতে তিনি যেন নিজেই পাগল হয়ে গেছেন। সমাজের ভাসমান এ সকল অসহায় মানুষদের জন্য সাধারণত বিশেষ ভাবে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না। অথচ এরাও রক্ত-মাংসের মানুষ। চলমান তীব্র শীত ও শৈত্য প্রবাহে এদের জীবন কাটছে পথে-ঘাটে অত্যন্ত মানবেতর ভাবে। 
 
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার দেওয়ানপাড়ার মৃত মানিক মণ্ডলের ছেলে শফিক মণ্ডল (২৭)। তিনি রাজবাড়ী ইঞ্জিনিয়ারর্স পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি সমাজের অসহায়দের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে চলেছেন। চাকরি পাওয়ার পর নিজের উদ্যোগেই তিনি প্রতি বছর সমাজের মানসিক বিকারগ্রস্ত অসহায়দের জন্য শীতবস্ত্র দিয়ে থাকেন। তার ধারাবাহিকতায় এবারো তিনি সোমবার পর্যন্ত ৬০জন পাগলকে কম্বল কিনে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে স্বল্প বেতনভোগী শফিক কুলিয়ে উঠতে না পারায় পরিচিত বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। 
 
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দের সন্তান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে কর্মরত সার্জেন্ট সিরাজুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে পরিচিত একটা নম্বার থেকে ফোন এলো, রিসিভ করার সাথে সাথেই একটু করুণ কণ্ঠে ভেসে এলো, ভাইয়া একশ পঞ্চাশটা টাকা দিবেন? একটু থতমত হলাম। ছেলেটি একটা ইঞ্জিনিয়ার্স কলেজের শিক্ষক, বেতন একটু কম হলেও তার ভালো ব্যক্তিত্ববোধ আছে। আমার কাছে অযথা টাকা চাওয়া তার কথা না, বিশেষ করে একশ পঞ্চাশ টাকা তো চাইতেই পারে না। একটু হাসি মুখে বললাম, কি করবে, একশ পঞ্চাশ টাকা দিয়ে? একটু ধরা কণ্ঠে উত্তর দিল, ভাইয়া একটা কম্বল কিনবো। আমি আরো একটু ইতস্তত হলাম। মনে হয় ভালো করে শুনতে পাইনি, তাই আবার বললাম কি করবে? একই উত্তর, ভাইয়া একটা কম্বল কিনবো। আমার ঘোর কাটানোর জন্য সে নিজেই বলতে লাগলো, ভাইয়া পাগলদের জন্য কম্বল কিনবো।
 
আলাপকালে শফিক মণ্ডল বলেন, 'গত বছর শীতে গোয়ালন্দের প্রায় সব অনাথ-পাগলকে খুঁজে খুঁজে কম্বল দিয়েছি, এবার গোয়ালন্দসহ রাজবাড়ীর বিভিন্ন রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেওয়া যে সমস্ত পাগল রয়েছে সবাইকে কম্বল দিতে চাই। কিন্তু আমার সামান্য বেতন দিয়ে কুলাতে পারছি না।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি