চট্টগ্রামে নারী ও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। টিকার যে চাহিদা তার অর্ধেকও যোগান নেই। জেলার ইপিআই স্টোরে হেপাটাইটিস-বি ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকার মজুদ নেই বলে জানিয়েছেন জেলার ইপিআই কর্মকর্তা। এতে বিপুলসংখ্যক শিশুকে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে নবজাতক শিশুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
জানা যায়, শিশুদের দশটি রোগের প্রতিরোধে সাতটি টিকা দেওয়া হয়। জন্মের পর থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত শিশুদের এসব টিকা দেওয়া হয়।
সরকারিভাবে মহানগরীতে সিটি করপোরেশন ও জেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। জেলা ও মহানগরীতে রয়েছে স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকা কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, টিকার মধ্যে রয়েছে-বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি, ওপিভি, আইপিভি ও এমআরভি। পেন্টাভ্যালেন্ট হলো শিশুদের জন্য জরুরি পাঁচটি টিকা। এর মধ্যে রয়েছে ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশি, হেপাটাইটিস-বি ও হেমোফিলাস ইনফ্লোয়েনজা। এই পাঁচটি টিকার চাহিদার অনুপাতে বরাদ্দ মিলছে না। বর্তমানে জেলার ইপিআই স্টোরে এসব টিকার কোনো মজুদ নেই। নিউমোনিয়ার টিকা পিসিভিরও মজুদ নেই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় পেন্টাভ্যালেন্টের মাসে ৮৭ হাজার ও পিসিভির মাসে ৪৩ হাজার চাহিদা রয়েছে; কিন্তু এসব টিকার চাহিদার অর্ধেকও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না।
সন্দ্বীপ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ফজলুল করিম জানান, চাহিদা অনুপাতে সব টিকা বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনবলের চরম সংকট রয়েছে।
পটিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, মাঝে মধ্যে টিকার সংকট দেখা দেয়। বর্তমানেও শিশুদের অতি প্রয়োজনীয় কিছু টিকার সংকট রয়েছে বলে শুনেছি।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) নাসির উদ্দিন বলেন, উপজেলায় বছরে ১০ হাজার ৮১২টি টিকার চাহিদা রয়েছে। জেলা কার্যালয়ে টিকার জন্য যোগাযোগ করেছি। সংশিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন টিকার সংকট রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার ইপিআই সুপারিনটেন্ডেন্ট হামিদ আলী বলেন, চট্টগ্রামে জেলার চাহিদার অর্ধেক টিকাও বরাদ্দ পাওয়া যায় না। আমরা তিন মাসের চাহিদা পাঠাই। নবজাতক শিশুদের অতি প্রয়োজনীয় পেন্টাভ্যালেন্ট ও পিসিভি টিকার কোনো মজুদ নেই। মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন এসব টিকা চাচ্ছে। মজুদ না থাকায় সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মী আবু বক্কর জানান, টিকা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে জনবল ও আনুষঙ্গিক জিনিসের সংকট রয়েছে। টিকা গ্রহণকারীদের শিশু কার্ড, শিশুটালি, মহিলাটালি ও মাসিক বই প্রদান করতে হয়। জেলা কার্যালয় থেকে এসব উপকরণ সরবরাহ দেওয়া হয়ে থাকে; কিন্তু এসবের সরবরাহ কম থাকায় রোগীদের দেওয়া যাচ্ছে না। এতে টিকাদানের সঠিক সময় ঠিক রাখতে সমস্যা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী জানান, মাঝে মধ্যে টিকার স্বল্পতা দেখা দেয়। আবার কয়েকদিনের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া যায়। বর্তমানে টিকার তেমন ঘাটতি নেই।
ইত্তেফাক/নূহু