'আর কত ছওয়ালের লাশ কাঁন্দে নিমু'

 
শোকে পাথর হয়ে গেছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আকবর আলী মণ্ডল। একের পর এক সন্তানের মরদেহ এসে চেপেছে তার কাঁধে। চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে কান্নার ভাষা। তিন বছরের ব্যবধানে তিন ছেলের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ আকবর আলী মণ্ডল-হাজেরা বেগম দম্পতি।
 
গত শনিবার সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিক দুলাল হোসেনের বাবা আকবর আলী মণ্ডলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও চলছে শোকের মাতম। আজ মঙ্গলবার সকালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের বালুকোল গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় নিহত দুলাল হোসেনের স্বজন ও গ্রামবাসীর সাথে।
 
আকবর আলী মণ্ডল জানান, তার পাঁচ ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে মেঝ ছেলে আবু বক্কার মানসিক প্রতিবন্ধী। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সন্তানদের সাথে বেশ সুখের সংসার ছিল তার। তিন বছর আগে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করা অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার বড় ছেলে ফুলাল। আর এ ঘটনার এক বছর পর ঢাকাতেই আরেক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার সেজ ছেলে হানিফ। প্রায় মাস তিনেক আগে বগুড়ায় ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন তার ছোট ছেলে বাবু। বাবু এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ অবস্থায় গত শনিবার সৌদি আরবে কোম্পানির গাড়ি চড়ে কর্মস্থলে যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন আকবর আলীর চতুর্থ ছেলে দুলাল হোসেন।
 
এ সময় শোকে পাথর আকবর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আর কত ছওয়ালের (ছেলে) লাশ কাঁন্দে নিমু। আল্লায় আমাক বাঁচাইয়্যা রাহে ক্যা।' নিহত দুলালের স্ত্রী জানান, প্রায় এক বছর আগে সাড়ে ৬ লাখ টাকা ঋণ করে তার স্বামীকে সৌদি আরব পাঠান। গত শুক্রবার রাতেও তার সাথে ফোনে কথা হয়। ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি ১০ বছর সৌদি আরবে কাজ করার কথা বলেন। কিন্তু ১০ ঘণ্টা পর তার মৃত্যুর খবর এলো। প্রতিবেশী আব্দুল হাকিম ও মুছা উদ্দিন মণ্ডল জানান, ৫ মাস বয়সীসহ তিন সন্তানের জনক দুলাল। অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে সংসার চলছিল। অভাব দূর করতেই ঋণ করে সৌদিআরব যান তিনি। তার মৃত্যুতে অসহায় এ পরিবারের বেঁচে থাকার আর কোন সম্বল রইলো না।
 
সৌদি আরব থেকে দুলালের মরদেহ দ্রুত আনার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান দুলালের চাচা আমির হোসেন। স্থানীয় ঝাঐল ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন ঠাণ্ডু বলেন, নিহত দুলালের পরিবারটি একেবারেই নিঃস্ব। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল দুলাল। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করবো। কামারখন্দ থানার ওসি আবু ওবায়দা খান জানান, আমরা নিহত দুলালের বাড়িতে গিয়েছিলাম। দুলালের মরদেহ দেশে আনার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।
 
ইত্তেফাক/জামান