স্পোর্টস রিপোর্টার
নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান ক্রিকেট। ১০ বছরের লম্বা বিরতির পর এবার দেশটিতে টেস্ট আয়োজনের জোর গুঞ্জন রয়েছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে আইসিসি চেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের মাটিতে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ দুটো হবে লাহোর ও করাচিতে।
৫০ ওভারের বিশ্বকাপের পর আগামী জুলাই থেকে শুরু হবে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। চলবে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতির এই ফরম্যাটে অংশ নেবে টেস্ট খেলুড়ে প্রথম নয়টি দেশ। শীর্ষ স্থানীয় পাকিস্তানি পত্রিকা ডন জানিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে (এসএলসি) এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, এখন অবধি কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে, এখন অবধি এই প্রস্তাবে ইতিবাচক এসএলসি।
সর্বশেষ পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালের মার্চে। সেবারও লাহোরে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল এই শ্রীলঙ্কাই। সেই সফরেই লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বাইরে শ্রীলঙ্কার টিম বাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলার জের থেকে দেশটি থেকে লম্বা সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট একরকম নিষিদ্ধই হয়ে যায়।
এরপর থেকে বিদেশি দলগুলোর বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে। যদিও, এই ব্যাপারটা অনেক ব্যয়বহুল। সেজন্যই নিজেদের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পিসিবি।
এই সময়ের মধ্যে টেস্ট না খেললেও সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলতে বেশ কয়েকটা দলই পাকিস্তানে এসেছে। সর্বপ্রথম আসে জিম্বাবুয়ে। ২০১৫ সালে লাহোরে তারা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে এসেছে। এরপর ২০১৭ সালে লাহোরে বিশ্ব একাদশ গিয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছে। এর বাদে ২০১৭ সালেই শ্রীলঙ্কা দল একটি টি-টোয়েন্টি ও ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে এসেছে পাকিস্তানে।
আর পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) বেশ কয়েকটি ম্যাচ এখন নিয়মিতই অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানে। সেখানে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা ছাড়াও থাকেন বিদেশি ক্রিকেটারা।
সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে পাকিস্তানে। এই সিরিজের আগেও পাকিস্তানে গিয়ে কয়েকটা ম্যাচ খেলে আসার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) কাছে অনুরোধ করেছিল পিসিবি। তবে, অনুমিত ভাবেই অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে অস্বীকার করে সিএ।