সাফ অনুর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনাল খেলায় ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ছিনিয়ে নেয়ার নেপথ্যে যে কুশীলবরা প্রধান ভূমিকা রেখেছিল তাদের মধ্যে খাগড়াছড়ির মেয়ে আনুচিং মারমা, আনাই মারমা ও মনিকা চাকমা ছিল অন্যতম। আনুচিং ও আনাই যমজ বোন। এদের বাড়ি জেলা সদর উপজেলার সাতভাইয়া পাড়া গ্রামে ও মনিকার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায়।
দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা তাদের এ সাফল্যকে আরো গতিময় করার পাশাপাশি এবং জীবনকে বিকশিত করতে দায়িত্ব নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। মঙ্গলবার দুপুরে অনেকটা বিনা নোটিশে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী আনুচিং ও আনাই মারমার বাড়িতে হাজির হন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীকে কাছে পেয়ে যমজ কৃতী ফুটবলাদের বাবা দিনমজুর রিপ্রু চাই মারমা ও মা আপ্রুমা মারমা আনন্দ আর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চলতি অর্থবছরের মধ্যেই আনাই-আনুচিংদের ঘরটি পুনর্নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং একই সাথে অপর কৃতী ফুটবল কন্যা লক্ষ্মীছড়ির দুর্গম সুমন্ত পাড়ার মনিকা চাকমার ঘরও নির্মাণ করে দেয়ার কথা ঘোষণা দেন। এছাড়া তাদের প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে এফডিআর, শিক্ষাবৃত্তিসহ সব দায়িত্ব খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ পালন করবে এ মর্মে ঘোষণা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞানময় ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) সভাপতি নুরুল আজম, জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংলামং চৌধুরী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলার মধ্য দিয়ে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার একদিন স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা।
ইত্তেফাক/আরকেজি