টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মঙ্গলবার আরো তিনজন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মামলায় ৩২জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ১২জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এবার আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী লিপিবদ্ধকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আগামী রবিবার। গত ৩ জানুয়ারি থেকে আলোচিত এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাড. নাছিমুল আক্তার নাছিম জানান, মঙ্গলবার রূপার বড়ভাই হাফিজুর রহমানসহ তিনজন সাক্ষ্য প্রদান করেন। অন্য সাক্ষীরা হলেন আব্দুল বারেক ও মমতাজ উদ্দিন আহাম্মেদ। দুপুর ১২টা থেকে বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত চলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল ও অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সাক্ষীদের জেরা করেন। এ সময় মামলার পাঁচ আসামিকেই আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার নাছিম আরো জানান, যে চারজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ মামলার আসামিদের ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করেন এবার তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত আগামী রবিবার তারিখ ধার্য করেন।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে গ্রেফতার হওয়া বাসের পাঁচজনের বিরুদ্ধে রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি বিচারের জন্য পরদিন ১৬ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বদলী করা হয়। গত ২৫ অক্টোবর আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে এবং বাসেই তাকে হত্যার পর টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে তার মৃত দেহ ফেলে রেখে যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করে। এ ঘটনায় মধুপুর থানায় পুলিশ বাদী হত্যা মামলা হয়। পরে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে বোনের লাশ শনাক্ত করেন।
গত ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার আসামিরা প্রত্যেকেই এখন টাঙ্গাইল জেলহাজতে আছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি