সাত বছরের ‘বন্দিত্বে’ যেভাবে বদলে গেলেন অ্যাসাঞ্জ

সিএনএনের সাংবাদিকের বিশ্লেষণ

আরো অনেকের মতো আমিও গ্রেফতারের ভিডিওটি প্রথম দেখি টুইটারে। জুলিয়ান কতটা বুড়িয়ে গেছে তা দেখে আমি মর্মাহত হই। তার লম্বা দেহকে পিছন দিকে মুড়িয়ে টেনে বের করে নিয়ে আসে পুলিশ। তাকে হতাশ এবং কোণঠাসা দেখাচ্ছিল। তাকে আত্মবিশ্বাসী, সাহসী এবং বিবেচক মনে হচ্ছিল না, যেমনটা তাকে আমি চিনতাম।

উইকিলিস একটি সুপরিচিত নাম হওয়ার আগে ২০০৯ সালে জুলিয়ানের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। আমি শুনেছিলাম তিনি আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার একটি ভিডিও পেয়েছেন, তাই লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে তার মনোযোগ আকৃষ্ট করেছিলাম। একদিন তাকে আমার অফিসে দেখি লাখখানেক নথিতে পূর্ণ একটি ইউএসবি স্টিকসহ, যেগুলোকে তিনি মার্কিন সরকারের গোপন নথি বলেছিলেন। তারপর কী হয়েছিল? ...যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সরকারি নথির সবচেয়ে বড়ো তথ্য ফাঁসের ঘটনা। 

শেষবার আমি তাকে দেখি প্রায় সাত বছর আগে, ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার অল্প কিছদিন পর। তখন তার স্বাস্থ্য ভালো ছিল এবং আমি সত্যি সত্যিই আশাবাদী ছিলাম যে, তিনি তখনো দূতাবাস থেকে উইকিলিস পরিচালনা করতে পারবেন। আমি ভাবিনি, তার কোনো ধারণা ছিল, এতটা লম্বা সময় তিনি সেখানে থাকবেন। পৃথিবীর দিকে তাকাতে এমনকী নিজের জানালাও তার ছিল না— প্রাকৃতিক আলো পাওয়ার জন্য তার প্রয়োজন হতো একটি সান ল্যাম্পের। প্রথম কয়েক সপ্তাহে তিনি এমনকী ঠিক মতো গোসলও করতে পারেননি। তিনি আমাকে বলেছিলেন, দূতাবাসে স্বল্প পরিসরে দিন কাটানোটা ছিল মহাকাশ যানে থাকার মতো।

তার বন্ধুরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত ছিলেন এবং তাকে একটি ব্যায়ামের যন্ত্র কিনে দিয়েছিলেন। পামেলা এন্ডারসন, লেডি গাগার মতো সেলিব্রেটি অতিথিরা মাঝে মাঝে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন এবং সেই সব ঘটনা বড়ো খবর হয়েছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে অ্যাসাঞ্জকে সেখানে খুব নিঃসঙ্গ সময় কাটাতে হয়েছে। এছাড়া দূতাবাসের বাইরে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নজরদারি ছিল। দূতাবাসের ছোট্ট পরিসরে বসবাস, নিঃসঙ্গতা, পুলিশি নজরদারি— এ বিষয়গুলো অ্যাসাঞ্জকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পর্যুদস্ত করে তোলেছে। এ কারণেই হয়তো তার মতো একজন আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী মানুষকে এখন হতাশ ও কোণঠাসা মনে হচ্ছে।