পঞ্চগড়ে এশিয়ান হাইওয়ে দখল করে পাথর, বালির রমরমা ব্যবসা

সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা

বাংলাবান্ধা-ঢাকা এশিয়ান হাইওয়ে দখল করে চলছে পাথর বালির ব্যবসা। পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার জগদল বাজার থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ের দুই পাশে পাথর বালির স্তূপ করা হয়েছে। ফলে এশিয়ান হাইওয়ের এসব এলাকা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে এসব এলাকায় দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। জগদল বাজার থেকে ভজনপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারপরও প্রশাসনের চোখের সামনেই দখল হয়ে আছে এশিয়ান হাইওয়ে।

এশিয়ান হাইওয়ে নামে পরিচিত এ সড়কে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার মোটরযান চলাচল করে। পঞ্চগড় জেলার শেষ সীমান্ত বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে অবস্থিত চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধায় প্রতিদিন কয়েক লাখ টন পাথর আমদানি হয়ে থাকে। এছাড়া এ এলাকার সমতল ভূমি কেটে এবং বিভিন্ন নদী থেকে পাথর বালি আহরণ করা হয়। আহরণকৃত এসব পাথর ক্রাশিং মেশিনে ভেঙে অনেক ব্যবসায়ী এশিয়ান হাইওয়ে দখল করে স্তূপ করে রেখেছে। অনেকে এশিয়ান হাইওয়ের উপরেই ক্রাশিং মেশিন বসিয়ে পাথর ভেঙে ব্যবসা করছেন। অনেক ব্যবসায়ী বালির স্তূপ করে রেখেছে। ফলে জগদল, অমর খানা, দশমাইল, তেঁতুলিয়া, ভজনপুর, বুড়াবুড়ি, রণচন্ডি, বাবুয়ানীজোত, সর্দারপাড়া এলাকায় হাইওয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকা চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন রহস্যজনক ভাবেই নীরব। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এশিয়ান হাইওয়ে দখল করে রেখেছেন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করছে এমন একটি সংগঠন সচেতন নাগরিক সমাজের মুখপাত্র আইনজীবী জিল্লুর রহমান জানান, প্রতি মাসেই এশিয়ান হাইওয়েতে দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী অসাধু ব্যবসায়ী এশিয়ান হাইওয়ে দখল করে ব্যবসা করছে। তাদের দেখাদেখি আরো অনেকেই এশিয়ান হাইওয়ে দখল করছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ দরকার। সর্দারপাড়া এলাকার পাথর ব্যবসায়ী ফজলে করিম বলেন, আমাদের জাতীয় মহাসড়কটি খুবই সুন্দর। এটাকে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব আমাদের সকলের কিন্তু কিছু ব্যবসায়ী অতি মুনাফা লোভে রাস্তার উপরেই ব্যবসার কার্যক্রম চালাচ্ছে। অন্যদিকে রনচন্ডি এলাকার পাথর বালি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, এই ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব ব্যবসা করছে। পত্রিকায় লিখলেও কোনো লাভ নেই। তেঁতুলিয়া উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদুর রহমান ডাবলু জানান, এশিয়ান হাইওয়ের দু’পাশে পাথর বালি ব্যবসা করার কারণে সড়কটি সংকুচিত হয়েছে।

ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। তেঁতুলিয়া ভজনপুর হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক জানান, আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। মাস দু-এক আগে বাংলাবান্ধায় সকল ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে ত্রিশ ফুট রাস্তা বের করে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন আবারো শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া। এশিয়ান হাইওয়ে দখলমুক্ত করতে হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইলকোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয়দের এগিয়ে আসতে হবে। পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের লোকবল কম। আমরা এশিয়ান হাইওয়ে দখলমুক্ত করতে ব্যবসায়ীদের চিঠি দিয়েছি। কিন্তু সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করতে হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বিশেষ প্রয়োজন। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানিউল ফেরদৌস জানান, এ ব্যাপারে প্রথমত সড়ক ও জনপথ বিভাগকে উদ্যোগ নিতে হবে। তারা লিখিত চাইলেই আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পারি।