মনপুরায় ২৫ দিন ধরে সি-ট্রাক বন্ধ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা এবং তজুমদ্দিন উপজেলার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাকটি দীর্ঘ ২৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন সি ট্রাকটি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিচ্ছেন।  সিট্রাকটি বন্ধ থাকার কারণে এপার-ওপারের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে।  মানুষ বাধ্য হয়ে ইঞ্জিনচালিত ছোট ট্রলারে করে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। মানুষের নিত্যদিনের এহেন দুর্ভোগের চিত্র প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সাধারণ মানুষ।

মনপুরা সরকারি হাজিরহাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন জানান, জেলার সঙ্গে মনপুরা উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমই হচ্ছে নৌপথ। এ রুটে বর্ষা মৌসুমে সি-ট্রাক ও শুষ্ক মৌসুমে লঞ্চ চলাচল হয়ে আসছিল।  গত ২৫ দিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে একমাত্র সি ট্রাক এসটি শহীদ শেখ কামাল।

জেলার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক বন্ধ রেখে টেন্ডারে পাওয়া সি-ট্রাক কর্তৃপক্ষ ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছে। এই দ্বীপের মানুষ বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ ছোট ছোট মাছ ধরার ট্রলারের মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে। এদিকে প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার। তা না হলে অতীতের মতো নৌ-দুঘর্টনায় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

এ দিকে, প্রতিদিন ঝড়ের আতঙ্ক বিরাজ করছে যাত্রীদের মাঝে। প্রতিদিনই আকাশটা কালো মেঘে ছেঁয়ে গিয়ে প্রচণ্ড গতিতে দমকা হাওয়া বয়ে যায়। আর ঐ সময়ে এই যাত্রীবাহী ছোট ট্রলার যদি মেঘনা নদীর মাঝে চলমান থাকে তাহলে নৌদুর্ঘটনায় হতাহতের মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

যাত্রীরা জানান, দীর্ঘদিন যাত্রীবাহী একমাত্র সি-ট্রাকটি বন্ধ থাকায় প্রয়োজনের তাগিদে বিকল্প ব্যবস্থায় যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নৌ-দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। জীবনের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে তারা ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট ট্রলারে যাতায়াত করছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, মেঘনায় ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঞ্জার জোন ঘোষণা করে সরকার। এই সময় মেঘনায় বেক্রসিং সনদধারী নৌযান ব্যতীত সকল প্রকার নৌযান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

ভোলা বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক (বন্দর কর্মকর্তা) মো. কামরুজ্জামান জানান, বেক্রসিং সনদ ব্যতীত সকল প্রকার নৌযান চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মেঘনায় নিরাপদ নৌযান চলাচলে ইতোমধ্যে ট্রাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। দ্রুত মেঘনায় চলাচলকারী অনিরাপদ নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভোলা বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শক মো. নাছিম জানান, লোকবল সংকটের কারণে মেঘনা থেকে অনিরাপদ নৌযান বন্ধ করা যাচ্ছে না। তারপরও সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রশাসনকে অভিযান পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিআইডব্লিউটিসির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, মনপুরা-তজুমুদ্দিন রুটে যাত্রীবাহী সি-ট্রাক এস টি শহীদ শেখ কামাল যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এই রুটে যাতায়াত করবে যাত্রীবাহী সি-ট্রাকটি।

মনপুরা উপজেলার নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ জানান, মেঘনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনিরাপদ নৌযানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতোমধ্যেই আমরা অনিরাপদে চলাচল নৌযান আটক করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। দ্রুত সি-ট্রাকটি চালুর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।