‘সূর্য ডোবার আগেই সাদকে দিল্লি ফেরত পাঠাতে হবে’

 
তাবলিগ জামাতের দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে সূর্য ডোবার আগেই দিল্লি ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। তারা বলেছেন, বৃহস্পতিবার সূর্য ডোবার আগেই (সন্ধ্যার মধ্যে) মাওলানা সাদকে দিল্লি ফেরত পাঠাতে হবে। পাঠানো না হলে দেশ অশান্ত হয়ে পড়বে। রাস্তায় গাড়ি চলবে না। সাদ নিজেকে দাওয়াতুল তাবলিগের স্বঘোষিত আমির হিসেবে দাবি করেন যা পুরোপুরি অবৈধ। তিনি কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি কুফরি আকিদা পোষণ করেন।আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর দুপুরে বায়তুল মোকাররম মসজিদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা একথা বলেন।
 
ওই সমাবেশে তাবলিগ জামাতের একাংশ ও আলেমরা দিল্লির মাওলানা সা’দ কান্ধলভিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। পরে নিজেদের বৈঠক শেষে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফজলুল করিম কাশেমী বলেন, সকালে আমরা কাকরাইল মসজিদে যেতে চাইলে পুলিশ ঢুকতে দেয়নি। তাই আমরা বায়তুল মোকাররমে সমবেত হয়েছি। 
IMG0
কাকরাইল মসজিদের ইঞ্জিনিয়র ওয়াসিফ, নাসিফসহ কয়েকজন মাওলানা সা’দের সঙ্গে মিলে বিশ্ব ইজতেমার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে। এরা গুপ্তচর। তারা আলেম না।
 
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ও জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মাদপুরের শায়খুল হাদিস মাওলানা মামুনুল হক বলেন, মাওলানা সা’দ থাকলে কেউ ইজতেমায় অংশ নেবেন না। ইজতেমায় সা’দকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হচ্ছে। ইজতেমাকে নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হতে দেয়া হবে না। 
 
তাবলিগের জিম্মাদার মাওলানা লোকমান বলেন, মাওলানা সা’দের উপস্থিতিতে কোনো ইজতেমা হবে না। 
 
তিনি আরো বলেন, পুলিশ যদি আমাদের বাধা দেয়, তাহলে ঘরে ঘরে আগুন জ্বলবে। যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তবে তার দায় দিল্লির সা’দকেই নিতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এদিকে সকাল থেকেই বায়তুল মোকারম মসজিদ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। যদিও ডিএমপি জানিয়েছে বিশ্ব ইজতেমা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশায় মাওলানা সাদ ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না। তারপরও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক পুলিশ। কাকরাইল মসজিদে এখনও পুলিশি নিরাপত্তা বহাল আছে।
IMG1
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমায় যাবেন কি যাবেন না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন ইজতেমার শীর্ষস্থানীয় নেতারা ও তাবলিগ জামাতের মুরব্বিরা।
 
সাদ কেন বিতর্কিত—
মাওলানা সাদ এর নানা ধরনের ভ্রান্তিমুলক ও কুফরী বক্তব্যের মধ্যে একটি হলো নিজামুদ্দিন মারকায মক্কা-মদিনার পর ইসলামের সবচেয়ে বড় কর্তৃপক্ষ। এই মন্তব্যে বেজায় নাখোশ হয় দেওবন্দ।ভারতীয় দৈনিকগুলোতেও মাওলানা সাদের বক্তব্যগুলো নিয়ে নানা শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম বা প্রধান মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি, নদওয়াতুল উলামার প্রিন্সিপাল মাওলানা সাইয়্যিদ সালমান আহমদ নদভি ও দিল্লির আইম্মা পরিষদের চেয়ারম্যান, মুফতি ওয়াজাহাত কাসেমি এক যৌথ বিবৃত দেন।
 
এই বিবৃতি ভারতের জাতীয় দৈনিকগুলো ‘তাবলিগ জামাতের আমির মৌলবি সাদের কুফুরি কালিমা’ নিয়ে মুসলমানদের মাঝে তোলপাড় শিরোনামে হাইলাইট করে প্রকাশ করা হয়।
 
তাবলিগের জিম্মাদাররা জানান, মাওলানা সাদ বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা করার সময় বলেন, আমি এই আয়াতের তাফরির এভাবে করি, এটা শুনো, এটা সঠিক তাফরির। মনোযোগ দিয়ে শুনো। মনোযোগ দিয়ে শুনো। যেটা সম্পূর্ণরূপে ভুল।এর বাইরে মাওলানা সাদ ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল ফোন রাখাও হরাম বলেছেন। 
 
তিনি বলেন, কারো পকেটে ক্যামেরা বিশিষ্ট মোবাইল রেখে নামাজ পড়লে নামায শুদ্ধ হবে না। যে উলামায়ে কেরাম ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল রাখেন, তাঁরা উলামায়ে ছূ (নিকৃষ্ট)। বারবার কসম করে বলেন, তাঁরা হলেন উলামায়ে ছূ।
 
তিনি বলেন, মোবাইলে কুরআন শরীফ পড়া এবং শোনা, প্রশ্রাবের পাত্র থেকে দুধ পান করার মতো। উনার শব্দ হল, পেসাবদানী ছে পানি পিনা হাঁয়’। কুরআন শরীফ শিখিয়ে যাঁরা বেতন গ্রহণ করেন, তাঁদের বেতন বেশ্যার উপার্জনের চেয়ে খারাপ। যেই ইমাম এবং শিক্ষকরা বেতন গ্রহণ করেন, তাদের আগে বেশ্যারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
IMG2
রাসূল সা. এর পর কেবল তিনজনের বাই’আত পূর্ণতা পেয়েছেন, বাকি সবার বাই’আত অপূর্ণ। তিন জন হলেন- শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ., মাওলানা ইলিয়াছ রহ. ও মাওলানা ইউসুফ রহ.।
 
তিনি আজমগড়ের ইজতিমায় একাধিকবার সুন্নাতকে তিন প্রকার বর্ণনা করেছেন- ইবাদাতের সুন্নাত, দাওয়াতের সুন্নাত এবং আচার-আচরণের সুন্নাত। এটা তার নতুন পদ্ধতির প্রচলন।
 
নবিদের বিষয়ে মাওলানা সাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, হযরত ইউসূফ আ. ‘উযকুরনি ইনদা রাব্বিক’ বলে গাইরুল্লাহ’র দিকে নযর দেয়ার কারণে অতিরিক্ত সাত বছর জেলখানায় থাকতে হয়েছে।
 
হযরত মুসা আ. দাওয়াত ছেড়ে দিয়ে কিতাব আনতে চলে গেছেন। দাওয়াত ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে পাঁচলক্ষ সাতাত্তর হাজার লোক মুরতাদ হয়ে গেল। হযরত মূসা আ. থেকে এক বড় ভুল হয়ে গেছে এবং তিনি অপরাধ করে বসছেন। এই জন্য তিনি ক্বওমকে ছেড়ে আল্লাহর সান্বিধ্য লাভের জন্য নির্জনতা গ্রহণ করলেন।আমাদের কাজের (তাবলিগী) সাথে লেগে থাকা এবং মাওলানা ইলিয়াছ ও মাওলানা ইউসূফ সাহেবের কিতাব পড়বে, অন্য কোন কিতাব পড়বে না। হযরত মূসা আ. কর্তৃক একটি বড় ভুল হয়েছে যে, তিনি উম্মতকে ছেড়ে নির্জনতা অবলম্বন করেছেন। হযরত মূসা আ. কর্তৃক হারুন আ. কে নিজের স্থলাভিষিক্ত বানানো উচিত হয়নি।
 
ইত্তেফাক/কেকে