বিশেষ প্রতিনিধি
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে হজ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সে হিসেবে এ বছর ঢাকার আশকোনা হজ ক্যাম্পে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি এক্সক্লুসিভ জোনে সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া আটটি বিভাগের জেলা সদরের ডিসি অফিসে হাজিদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। গতকাল শুক্রবার সচিবালয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাবেন। মোট হজযাত্রীদের শতকরা ৫০ ভাগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ও অবশিষ্ট ৫০ ভাগ সৌদি এয়ার লাইন্সে করে সৌদি গমন করবেন।
প্রচলিত রীতি অনুসারে বাংলাদেশ বিমানের হজযাত্রীরা আশকোনা হজ ক্যাম্পে ও সৌদি এয়ার লাইন্সের যাত্রীরা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। আসন্ন হজে একই নিয়মে তারা আশকোনা ক্যাম্পে ও শাহজালাল বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবেন। এরপর উভয় বিমানের হজযাত্রীদের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি এক্সক্লুসিভ জোনে নিয়ে যাওয়া হবে। সৌদি আরবের জেদ্দায় তাদের যে ইমিগ্রেশন হতো, সেই কাজটি এই এক্সক্লুসিভ জোনে সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরো জানান, সৌদি আরবের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছেন। সফররত সৌদি আরবের প্রতিনিধি দল ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন। আমরা উভয় পক্ষই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছি। এছাড়া সৌদি আরবে হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়া নিয়ে যে সমস্যা হতো, সেটা এবার আর হবে না। ইতোমধ্যেই আমরা ভালো বাড়ি ভাড়া পেয়েছি। সেখানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের আগের মনোভাব এবারের মনোভাব এক না। এবার আমরা যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছি তারা মেনে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপ্তির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী রোজার মাঝামাঝিতে এসএমএস করে জানিয়ে দেওয়া হবে, কবে থেকে হজযাত্রীদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে।