আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যার পথ দেখিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। তারা ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছিল। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদাররাও এভাবে মানুষ হত্যা করেছিল। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার সংস্কৃতি পাকিস্তান ও বিএনপি জামায়াতের। গতকাল শুক্রবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সূচনা বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে বিনা কারণে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করা হলো। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কেউ রেহাই পাবে না। তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা বরদাশত করা হবে না। কারণ এটা ঘৃণিত অপরাধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নুসরাতকে যেভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছে এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। আমরা চেষ্টা করেছিলাম মেয়েটিকে বাঁচানোর। সিঙ্গাপুরে পাঠাতে চেয়েছিলাম। সেখানে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না; কিন্তু দুর্ভাগ্য মেয়েটিকে আর বাঁচানো গেল না।’ তিনি বলেন, বোরখা পরে হাত-মুখ ঢেকে তারপরে ওকে আগুন দেওয়া হয়েছে। এরা কেউই ছাড় পাবে না। আমরা ছাড়বো না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাদের পেতে হবে। যেন আর কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে সাহস না পায়।
শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানিরাও এ ধরনের আগুন সন্ত্রাস চালাতো। আর বিএনপি-জামায়াত ইতোপূর্বে গাড়িতে পেট্রোলবোমা ছুড়ে জীবন্ত মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। ২০১৩ সালে নির্বাচন পণ্ড করার নামে জ্বালাও-পোড়াও অগ্নিসন্ত্রাস করেছে; কিন্তু তারা নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। তারা বাসে, ট্রেনে, ট্রলারে আগুন দিয়েও মানুষ পুড়িয়েছে। এই যে যেখানে সেখানে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে এই পথটা তো বিএনপিই দেখিয়ে গেছে। আমি মনে করি, এগুলো প্রতিহত করতে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি হওয়া দরকার। যারা আগুন সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন তারাই একমাত্র বুঝতে পারেন এর কত যন্ত্রণা। অনেকে পোড়া শরীর নিয়ে এখনো বেঁচে আছেন। তাদের অনেককেই আমরা সাহায্য-সহযোগিতা করছি।
ভবনে অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটার প্রতিকার করতে গেলে যাদের ভবন আছে তাদের একটা দায়িত্ব আছে। যারা ভবন ব্যবহার করে তাদের জানা থাকা দরকার অগ্নিকাণ্ড ঘটলে কীভাবে ওই ভবন থেকে বের হবে। বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও তাদের থাকা উচিত। সরকার তো সরকারের কাজ করবেই; কিন্তু সবার স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করা উচিত। যারা প্ল্যান করেন, যারা আর্কিটেক্ট, যারা অনুমোদন দেন তাদেরও দায়িত্ব আছে। তারা যেন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। আমাদের সবকিছু প্ল্যান করে ডিজাইন করা উচিত। এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়বো না— এ মানসিকতা থাকা উচিত না। এন্টিরিয়র ডিজাইনের কারণে ফায়ার এক্সিট নাই— এটা কেমন কেথা। যারা ভবন ব্যবহার করেন তারা তো শিক্ষিত মানুষ, তাদের মধ্যে তো সচেতনতাবোধ থাকা উচিত।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর হামিদা বানু, মুকুল বোস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।
দলের উপদেষ্টাদের শেখ হাসিনা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী কর্মসূচি সফল করতে সাবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরতে তিনি উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান জানান ।
বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন দলের উপদেষ্টা আমির হোসেন আমু. তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, হামিদা বানু ও মকবুল হোসেন। তারা বলেন, দেশে ও দেশের বাইরে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা নিয়ে অনেক ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী এসব বিকৃত ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরে হবে। এজন্য লেখনী, প্রকাশনা, টক-শোতে ব্যাপক আলোচনা রাখতে হবে।