বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বোর্ড মনোনীত মাহমুদুল হককে নিয়োগ না দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতাসম্পন্ন এবং নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই মো. তাবিউর রহমান প্রধানকে নিয়োগ দেয়া হয়।
এতে নিয়োগ বঞ্চিত হয়ে অধিকার আদায়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন মো. মাহমুদুল হক। পরবর্তীতে গত ১৫ অক্টোবর উচ্চ আদালত মাহমুদুল হককে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিলেও এখনো এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্যান্য বিভাগের পাশাপাশি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে দুজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর ২০১২ সালে ১৩ জানুয়ারি নিয়োগ বোর্ড তাদের নিয়োগ সম্পন্ন করে। নিয়োগ বোর্ড তিনজনকে মেধা তালিকায় রাখে। এতে বলা হয়, মেধা তালিকা থেকে কেউ যোগদান করতে না চাইলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে প্রথম জন যোগদান করবেন। যদি প্রথম জন যোগদান করতে ব্যর্থ হন তাহলে দ্বিতীয় জন যোগদান করবেন। কিন্তু প্রথম জনকে বাদ দিয়ে যোগদান করানো হয়েছে তৃতীয় জনকে যা ছিল নিয়োগ বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপন্থি। প্রথম জনকে বাদ দিয়ে তৃতীয় জন নিয়োগ দেয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এতে ক্ষুদ্ধ হন অপেক্ষমাণ তালিকার প্রথম স্থানে থাকা মো. মাহমুদুল হক। তিনি এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। আদালত তার মামলা গ্রহণ করেন।
গত ১৫ অক্টোবর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মো. মাহমুদুল হককে নিয়োগের আদেশ দেন। এতে বলা হয়, রায়ের কপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিতে। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রায় তিনমাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তিনি নিয়োগ পাননি। আদালতে রিট আবেদনে মো. মাহমুদুল হকের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিৎ হবে মো. মাহমুদুল হককে নিয়োগ দেয়া। আদেশ পাওয়ার পরও নিয়োগ না দিলে সেটা হবে বিধি ভঙ্গ।
এ বিষয়ে মো. মাহমুদুল হক বলেন, ‘আমি আদালতের কপি বিশ্ববদ্যালয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আমাকে নিয়োগ দেয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে রবিবার সন্ধ্যায় মো. তাবিউর রহমান প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশে কোথাও আমার নাম বলা হয়নি। নিয়োগ তালিকায় আমার পরে আরো একজনের নাম ছিল। তার নাম বাদ দিয়ে শুধু আমার নাম কেন বার বার বলা হচ্ছে তা আমি বুঝতে পারছি না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘এ নিয়োগে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিৎ। অন্যায়ভাবে কেউ চাকরিতে প্রবেশ করে থাকলে তার সমুদয় অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কোষাগারে ফেরত দেয়া উচিৎ।'
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এবং রেজিস্ট্রার মো. ইব্রাহিম কবিরকে একাধিকবার চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।