ডিবি পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে পুলিশের হেনস্তার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। আজ রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি এবং ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ আব্দুল্লাহ বিন মুন্সী। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস।
ভূক্তভোগী ছাত্র জানান, রবিবার বিকেল ৪টার দিকে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তানভির হোসেন শান্ত’র মায়ের ফোন নম্বরে ডিবি পরিচয়ে শান্তকে আটকে রাখার কথা বলে রকেট (ডিবিবিএল) এর মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তখন শান্ত ক্লাসে ছিল। ফলে শান্তকে ফোন দিলেও সে রিসিভ করতে পারেনি। পরবর্তীতে ঘটনার বিস্তরিত লিখে শান্ত ও তার মাকে নিয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করতে যাই। এ সময় কর্তব্যরত কর্মকর্তা এসএম নূর জিডি নিতে গড়িমসি করেন এবং আমাকে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাসের কাছে যেতে বলেন।
পরে জাফর আলীর কাছে গেলে সেখানে অনেক সময় ধরে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি। এরপরও তারা আমাদের কথা শুনছিলেন না এবং রূঢ় আচরণ করছিলেন। আমি তাকে তখন এইরকম আচরণ কেনো করা হচ্ছে, আর আমাদের কেনো গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না জিজ্ঞাসা করলে- শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং আমার গায়ে হাত তোলেন। আমাকে টেনে-হিচড়ে তার চেয়ারের সামনে নিয়ে অপমানিত করেন।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জাফর আলী বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, হেনস্তার কোনো ঘটনা ঘটেনি। জিডি করতে একটু দেরি হয়েছে। তবে পরবর্তীতে জিডি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান, একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা জিডি নিয়েছি। কর্তৃপক্ষ কোনো লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ফরোয়ার্ড করে দিব।
ইত্তেফাক/নূহু