পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর হত্যাকাণ্ডের অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আবু মনসুর মো. জিয়াউল হকের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
১০জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার অন্যতম আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব ওরফে আন্ধী, আলমগীর হোসেন, রমজান আলী, খলিলুর রহমান ও হারেস আলীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। কড়া নিরাপত্তায় ৫ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান জানান, দেবীগঞ্জের যজ্ঞেশ্বর হত্যা মামলায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে আরও ৬জন সাক্ষ্য গ্রহণ করেন পুলিশ।
আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি আবারও তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জের শ্রীশ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বরকে গলাকেটে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। এ ঘটনায় ১০জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড়ভাই রবীন্দ্রনাথ রায়। পরে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আরও দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। দুই মামলায় ১০জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৬ সালের ১৬ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ১০ আসামির মধ্যে ৪জন বিভিন্নস্থানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। এদের মধ্যে রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাধন ঢাকার হলি আর্টিজেনে পুলিশের অপারেশনে, সাদ্দাম হোসেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে, নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে এবং শফিউল আলম ওরফে ডন ওরফে সোহান ময়মনসিংহে র্যাবের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়। রানা নামে অপর এক আসামি এখনো পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
ইত্তেফাক/আরকেজি