লাঙ্গলবন্দে মহা অষ্টমীর স্নানে লাখো পূণ্যার্থীর সমাগম

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বন্দরের লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানোত্সব শুরু হয়েছে। তিথি অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা ৪৮ সেকেন্ডে স্নান উত্সব শুরু হয়। শেষ হবে আজ শনিবার সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে।

স্নানোত্সবের প্রথম দিনে ভোর থেকে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। এ বছর দেশ বিদেশের প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ পুণ্যার্থী স্নানে অংশ নেওয়ার কথা। স্নান উদযাপন কমিটির সভাপতি সরোজ সাহা জানান, এবারের মহাঅষ্টমী স্নানে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে কয়েক শত পুণ্যার্থীর আগমন ঘটেছে। এছাড়া স্নান উত্সবকে ঘিরে প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে লোকজ মেলা বসেছে। এছাড়া লাঙ্গলবন্দ রাজঘাটের মন্দিরে ৩ দিনব্যাপী বাসন্তীপূজা শুরু হয়েছে। গত বছরের মতো এবারো ১৮টি ঘাটে স্নানে অংশ নিচ্ছেন পুণ্যার্থীরা।

বিকালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান লাঙ্গলবন্দে যান এবং তিনি ঘাটগুলো পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি পুণ্যার্থীদের খোঁজখবর নেন। এদিকে মহাঅষ্টমী স্নানে এসে প্রিয়া রাণী দাস নামে ৮০ বছরের এক নারী পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সেলিম ওসমান মৃত প্রিয়া রাণী দাসের সত্কারের জন্য ২৫ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন।

দুই দিনব্যাপী এ উত্সবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা উত্সবে নানাভাবে সহায়তা করছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১৬শ পুলিশ সদস্য। নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে ৮টি ওয়াচ টাওয়ার ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, প্রায় ১৬শ পুলিশ এখানে কাজ করছে। তিন শিফটে কাজে নিয়োজিত তারা। এখানে প্রায় ১৮টা স্নানঘাট আছে। প্রতিটা স্নানঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।