চীনের বিজ্ঞানীরা এবার একটি বানরের মস্তিষ্কে মানব জিন যুক্ত করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চমকপ্রদ ফলাফল দেখতে পেয়েছেন। বানরের মস্তিষ্কে মানব জিন যুক্ত হওয়ার পর বানরের ‘বোঝার ক্ষমতা’ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নতুন এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত বিজ্ঞানীরা। একদল বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় মানব জিন যুক্ত হওয়ার পর বানর খুব স্মার্ট হয়, চটপটে আচরণ করে। তবে বিজ্ঞানীদের আরেকটি দল বলছেন, এই ধরনের জেনেটিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুস্পষ্টভাবে প্রাণী অধিকারের লঙ্ঘন।
বিবর্তন এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যেখানে প্রজন্ম থেকে প্রজান্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তন ঘটে। চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব অনুযায়ী, বানর থেকে মানুষে পরিণত হওয়া নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে সে সম্পর্কেও নতুন দিশা দেবে এই গবেষণা। চীনের দক্ষিণাঞ্চলের কুনমিং ইনস্টিটিউট অব জুয়োলজির তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় দেখা যায়, বানরের দেহে মানব জিন যুক্ত হওয়ার ফলে বানরের মস্তিষ্কের আকার এবং অবধারণ দক্ষতা নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। মানব জিন যুক্ত হওয়ার পর বানরের বুদ্ধিমত্তা আগের থেকে বেড়ে যায়। এক কথায়, এই বানরকে স্মার্ট বানর হিসেবে মূল্যায়ন করছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে, বানরের ওপর এই ধরনের গবেষণা এটিই প্রথম। তবে বানরের ওপর এই ধরনের জেনেটিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রাণী অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রধান গবেষক কুনমিং ইনস্টিটিউ অব জুয়োলজির চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সাইন্সের অধ্যাপক সু বিঙ বলেন, বানরের ওপর এই গবেষণাটি ইউনিভার্সিটির ইথিকস বোর্ড পর্যালোচনা করেছে। চীন সরকার এবং আন্তর্জাতিকভাবেও পর্যালোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে গবেষণা করতে গিয়ে যাতে প্রাণী অধিকারের বিষয়টি ক্ষুণ্ন না হয় সেটির দিকেও মনোযোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন সু বিঙ।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে মানব মস্তিষ্ক সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্যের জবাব দিতে পারবে। যা কি না ভবিষ্যতে মানব মস্তিষ্কের রোগব্যাধি সারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বানরের দেহে মানব জিন যুক্ত করার এই প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা। ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো জিন বিজ্ঞানী জেমস সিকেলা বলেন, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। এই প্রক্রিয়ায় বানরের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হুমকির মুখে ফেলবে। —সিএনএন