সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁয় অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটা বিধি-বিরুদ্ধ হলেও বালু উত্তোলন থামছে না। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নদী ভাঙন দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া, বালু উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ঘর-বাড়ি, ফসলের মাঠ, মূল্যবান গাছপালা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার হুমকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে—দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বালু ব্যবসায়ীরা পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ থেকে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। উপজেলার পদ্মার চরের আকোটেরচর ইউনিয়নের শয়তান খালিঘাট, আকোটেরচরের কাপাশিয়া বিলপাড়, উত্তর আকোট পদ্মারচর, ঢেউখালী ইউয়িনের আড়িয়াল খাঁ নদের মুন্সিরচর, চন্দ্রপাড়া পুরাতন লঞ্চঘাট, হানিফ হাজিরডাঙ্গি, ইউছুফ মুন্সিরকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলে স্তূপ করে সেই বালু ভেকু দিয়ে ট্রাক ভরে বিভিন্ন ইটভাটা, পুকুর-ডোবা ও বাড়ি ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে রাতভর শত শত ট্রাকে করে চলে বালু পাচারের কাজ। অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকার প্রধান সড়কগুলো পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে মোটরসাইকেল, অটোবাইক ও বিভিন্ন যান্ত্রিক যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। রাতে উপজেলার প্রধান সড়কগুলো বালু ব্যবসায়ীদের পুরো দখলে চলে যায়। ওই সময় অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না ও যাত্রীরা সড়ক দুর্ঘটনার ভয়ে আতঙ্কে থাকে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান ও সদস্যরা জানান, এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূরবী গোলদার বলেন, ‘অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার সাজা ও জরিমানা করা হলেও কোনোভাবে তাদের দমন করা যাচ্ছে না। এরপরও যদি কেউ অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু